খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে সাবেক ছাত্রদল নেতা নিহত
মেলবোর্ন, ১৬ মার্চ- খুলনা মহানগরীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে রাশিকুল আনাম রাশু (৩৬) নামে এক সাবেক ছাত্রদল নেতা নিহত হয়েছেন। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর দৌলতপুর…
মেলবোর্ন, ২৮ জুলাই- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত উমামা ফাতেমা ২৭ জুলাই রাতে একটি দীর্ঘ ফেসবুক লাইভে অংশ নিয়ে আন্দোলনের অভ্যন্তরীণ সংকট, নেতৃত্বের ভূমিকা, চাঁদাবাজি ও দল গঠনের গোপন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ উত্থাপন করেন। ২ ঘণ্টা ২৪ মিনিটের এই লাইভে তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা, হতাশা এবং বিচ্ছিন্ন হওয়ার পেছনের নানান ঘটনা প্রকাশ্যে আনেন।
আন্দোলনের আদর্শ বনাম বাস্তবতা
উমামা বলেন, “আমি একেবারে প্রথম দিকেই এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হই। আমার মাথাতেই আসেনি যে কোনো আন্দোলনকে ব্যবহার করে এভাবে কেউ টাকার উৎসে পরিণত করতে পারে।” তিনি জানান, আন্দোলন শুরুর পরের মাসগুলোতে অর্থ সংগ্রহ, চাঁদাবাজি, দখল ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে আন্দোলনের আদর্শিক কাঠামো ধ্বংস হতে থাকে।
তিনি বলেন, “আমার চোখের সামনেই দেখি, এই আন্দোলন হয়ে গেছে একটা মানি মেকিং মেশিন। একেকজন নিজেদের স্বার্থে নাম, পদবি, ব্যানার ব্যবহার করে কীভাবে ইনকাম করছে, সেটা আমি নিজ চোখে দেখেছি। আন্দোলনের আদর্শ, জনগণের দাবি—সব পেছনে পড়ে গেছে।”
মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব ও হতাশা
উমামা বলেন, “আমি যখন মুখপাত্র হই, তখনই বুঝতে পারি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বা আদর্শিক ভূমিকার কিছুই আসলে আমার হাতে নেই। সব সিদ্ধান্ত হত ‘উপদেষ্টা বাসভবন’—হেয়ার রোডের সেরি পেরদানা নামের জায়গা থেকে। আমি ছিলাম শুধু একটি মুখ, এক ধরনের ‘টিস্যু পেপার’, যাকে ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, নেতৃত্বের কেন্দ্রীয় একটি অংশ একচেটিয়া সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, সেখানে আন্দোলনের তরুণ কর্মী বা মুখপাত্রদের কোনো মতের মূল্য নেই।
চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহার
লাইভে উমামা ফাতেমা চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অভিযোগের কথা বলেন। তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রে ‘সমন্বয়ক’ পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে হস্তক্ষেপ, চাঁদাবাজি, জায়গা দখল ও ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “চট্টগ্রামের কাহিনি ধরতে গেলেই অনেকের ‘প্যান্ট খুলে যেত’। আমি নিজে সেখানে গিয়ে তদন্ত করেছি, মানুষ আমাকে চুপিসারে সব জানিয়েছে, কিন্তু যারা এসব করছিল, তারা এতটাই দাপুটে ছিল যে তাদের বিরুদ্ধে কিছু করা যায়নি।”
ঘোষণাপত্র ও দল গঠনের বিষয়
উমামা বলেন, ৩১ ডিসেম্বর ঘোষণাপত্র দেওয়ার কর্মসূচি ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয়। এরপর জানুয়ারিতে তিনি জানতে পারেন, একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তুতি চলছে—যেটির সঙ্গে তিনি একমত ছিলেন না।
“আমি বারবার বলেছি, এই আন্দোলন জনগণের, এটাকে কেউ ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে না। কিন্তু কেউ শুনছে না। দল গঠনের নামে যারা কাজ করেছে, তারা নিজেদের মতো করেই এগিয়ে গেছে। এর সঙ্গে আমি থাকতে পারি না”—বলেন উমামা।
ব্যক্তিগত চাপ ও বিচ্ছিন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত
উমামা বলেন, “একটা সময় আমি চরম মানসিক চাপে ছিলাম। রাতের পর রাত ঘুমাতে পারতাম না। মনে হতো, আমি একা। আমি শুধু একটা নাম, যাকে সামনে রাখা হয়েছে, অথচ ভিতরে কী হচ্ছে, আমার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।”
তিনি জানালেন, জানুয়ারির শেষ দিকে তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি আর এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে থাকবেন না। এরপর তিনি নিজের পড়াশোনা, ব্যক্তিগত জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় মনোযোগ দেন।
আত্মসম্মান ও মূল্যবোধ
“আমি টিস্যু পেপার না”—এই বাক্যটি উমামা একাধিকবার লাইভে বলেন। তিনি বলেন, “আমি ভালো পরিবার থেকে এসেছি। আমার বাবা-মা কখনো আমাকে বলে নাই টাকা কামাও, নাম কামাও। আমার আত্মসম্মান আছে। আর সেটার কারণে আমি এই প্ল্যাটফর্ম ছাড়তে বাধ্য হয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “যারা শুধু আদর্শ নিয়ে কাজ করতে চায়, তাদের এই প্ল্যাটফর্মে জায়গা নেই। এখানে টিকে থাকতে হলে আপনার মানিয়ে নিতে হবে, চুপ থাকতে হবে, আর নেতাদের সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে—তাতে আদর্শ থাক বা না থাক।”
‘এটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে ট্র্যাজিক অধ্যায়’
লাইভের একেবারে শেষে এসে উমামা বলেন, “জুলাই আন্দোলন, তার শুরুটা, তার আবেগ—সবই আমার কাছে অনেক দামি ছিল। কিন্তু এরপর যেটা হয়েছে, সেটা ছিল এক রকম ‘লিভড ট্রমা’। আমি গর্ব করতে পারতাম, আমি সেই আন্দোলনের মুখপাত্র ছিলাম, কিন্তু এখন লজ্জা হয়, ঘৃণা হয়।”
তিনি বলেন, “আমার প্ল্যাটফর্ম ছিল, সুযোগ ছিল, জনপ্রিয়তাও ছিল। কিন্তু আমি কখনো নিজের স্বার্থে কিছু ব্যবহার করিনি। আর এই ব্যবহারবাদিতা, এই রাজনীতিকরণ—এটাই এই আন্দোলনকে শেষ করে দিচ্ছে।”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au