বাংলাদেশ

জুলাইকে ‘মানি মেকিং মেশিনে’ পরিণত করা হয়েছে: উমামা ফাতেমা

  • 11:23 pm - July 28, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১৫৭ বার
ফেসবুক লাইভে উমামা ফাতেমা; ছবিঃ ভিডিও থেকে নেয়া

মেলবোর্ন, ২৮ জুলাই- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত উমামা ফাতেমা ২৭ জুলাই রাতে একটি দীর্ঘ ফেসবুক লাইভে অংশ নিয়ে আন্দোলনের অভ্যন্তরীণ সংকট, নেতৃত্বের ভূমিকা, চাঁদাবাজি ও দল গঠনের গোপন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ উত্থাপন করেন। ২ ঘণ্টা ২৪ মিনিটের এই লাইভে তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা, হতাশা এবং বিচ্ছিন্ন হওয়ার পেছনের নানান ঘটনা প্রকাশ্যে আনেন।

‍আন্দোলনের আদর্শ বনাম বাস্তবতা

উমামা বলেন, “আমি একেবারে প্রথম দিকেই এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হই। আমার মাথাতেই আসেনি যে কোনো আন্দোলনকে ব্যবহার করে এভাবে কেউ টাকার উৎসে পরিণত করতে পারে।” তিনি জানান, আন্দোলন শুরুর পরের মাসগুলোতে অর্থ সংগ্রহ, চাঁদাবাজি, দখল ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে আন্দোলনের আদর্শিক কাঠামো ধ্বংস হতে থাকে।

তিনি বলেন, “আমার চোখের সামনেই দেখি, এই আন্দোলন হয়ে গেছে একটা মানি মেকিং মেশিন। একেকজন নিজেদের স্বার্থে নাম, পদবি, ব্যানার ব্যবহার করে কীভাবে ইনকাম করছে, সেটা আমি নিজ চোখে দেখেছি। আন্দোলনের আদর্শ, জনগণের দাবি—সব পেছনে পড়ে গেছে।”

মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব ও হতাশা

উমামা বলেন, “আমি যখন মুখপাত্র হই, তখনই বুঝতে পারি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বা আদর্শিক ভূমিকার কিছুই আসলে আমার হাতে নেই। সব সিদ্ধান্ত হত ‘উপদেষ্টা বাসভবন’—হেয়ার রোডের সেরি পেরদানা নামের জায়গা থেকে। আমি ছিলাম শুধু একটি মুখ, এক ধরনের ‘টিস্যু পেপার’, যাকে ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, নেতৃত্বের কেন্দ্রীয় একটি অংশ একচেটিয়া সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, সেখানে আন্দোলনের তরুণ কর্মী বা মুখপাত্রদের কোনো মতের মূল্য নেই।

চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহার

লাইভে উমামা ফাতেমা চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অভিযোগের কথা বলেন। তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রে ‘সমন্বয়ক’ পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে হস্তক্ষেপ, চাঁদাবাজি, জায়গা দখল ও ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “চট্টগ্রামের কাহিনি ধরতে গেলেই অনেকের ‘প্যান্ট খুলে যেত’। আমি নিজে সেখানে গিয়ে তদন্ত করেছি, মানুষ আমাকে চুপিসারে সব জানিয়েছে, কিন্তু যারা এসব করছিল, তারা এতটাই দাপুটে ছিল যে তাদের বিরুদ্ধে কিছু করা যায়নি।”

ঘোষণাপত্র ও দল গঠনের বিষয়

উমামা বলেন, ৩১ ডিসেম্বর ঘোষণাপত্র দেওয়ার কর্মসূচি ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয়। এরপর জানুয়ারিতে তিনি জানতে পারেন, একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তুতি চলছে—যেটির সঙ্গে তিনি একমত ছিলেন না।

“আমি বারবার বলেছি, এই আন্দোলন জনগণের, এটাকে কেউ ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে না। কিন্তু কেউ শুনছে না। দল গঠনের নামে যারা কাজ করেছে, তারা নিজেদের মতো করেই এগিয়ে গেছে। এর সঙ্গে আমি থাকতে পারি না”—বলেন উমামা।

ব্যক্তিগত চাপ ও বিচ্ছিন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত

উমামা বলেন, “একটা সময় আমি চরম মানসিক চাপে ছিলাম। রাতের পর রাত ঘুমাতে পারতাম না। মনে হতো, আমি একা। আমি শুধু একটা নাম, যাকে সামনে রাখা হয়েছে, অথচ ভিতরে কী হচ্ছে, আমার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।”

তিনি জানালেন, জানুয়ারির শেষ দিকে তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি আর এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে থাকবেন না। এরপর তিনি নিজের পড়াশোনা, ব্যক্তিগত জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় মনোযোগ দেন।

আত্মসম্মান ও মূল্যবোধ

“আমি টিস্যু পেপার না”—এই বাক্যটি উমামা একাধিকবার লাইভে বলেন। তিনি বলেন, “আমি ভালো পরিবার থেকে এসেছি। আমার বাবা-মা কখনো আমাকে বলে নাই টাকা কামাও, নাম কামাও। আমার আত্মসম্মান আছে। আর সেটার কারণে আমি এই প্ল্যাটফর্ম ছাড়তে বাধ্য হয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “যারা শুধু আদর্শ নিয়ে কাজ করতে চায়, তাদের এই প্ল্যাটফর্মে জায়গা নেই। এখানে টিকে থাকতে হলে আপনার মানিয়ে নিতে হবে, চুপ থাকতে হবে, আর নেতাদের সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে—তাতে আদর্শ থাক বা না থাক।”

‘এটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে ট্র্যাজিক অধ্যায়’

লাইভের একেবারে শেষে এসে উমামা বলেন, “জুলাই আন্দোলন, তার শুরুটা, তার আবেগ—সবই আমার কাছে অনেক দামি ছিল। কিন্তু এরপর যেটা হয়েছে, সেটা ছিল এক রকম ‘লিভড ট্রমা’। আমি গর্ব করতে পারতাম, আমি সেই আন্দোলনের মুখপাত্র ছিলাম, কিন্তু এখন লজ্জা হয়, ঘৃণা হয়।”

তিনি বলেন, “আমার প্ল্যাটফর্ম ছিল, সুযোগ ছিল, জনপ্রিয়তাও ছিল। কিন্তু আমি কখনো নিজের স্বার্থে কিছু ব্যবহার করিনি। আর এই ব্যবহারবাদিতা, এই রাজনীতিকরণ—এটাই এই আন্দোলনকে শেষ করে দিচ্ছে।”

এই শাখার আরও খবর

নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রির নির্দেশ উপদেষ্টা জাহেদের, শুনছে না বিক্রেতারা

নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নজরদারি বাড়ানো এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ…

দেশজুড়ে বেড়েছে ধর্ষণ-নির্যাতন, ২০ মাসে ৬৪৩ শিশুর মৃত্যু

শিশুর ভবিষ্যৎ সুরক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পালিত হচ্ছে শিশু অধিকার দিবস। অথচ দেশে শিশুদের ওপর ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনা…

চার কারণে ধুঁকছে অর্থনীতি, প্রবৃদ্ধি নামবে ৩.৪ শতাংশে

সংস্কারের ঘাটতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি সংকট ও দুর্বল রাজস্ব আহরণের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি আরও কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী,…

সুজানগরে নিখোঁজের পর হলুদখেত থেকে হোটেল হিন্দু মালিকের মরদেহ উদ্ধার

পাবনার সুজানগরের আমিনপুরে নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর বাবু সুপ্রভাত মোদক (৩৫) নামে এক হোটেল ব্যবসায়ীর ক্ষতবিক্ষত ও আগুনে পোড়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৬…

ব্যাপক ধরপাকড়ের মুখে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক ফ্রান্সের স্কুলশিক্ষার্থীদের

শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ কমানো, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন সংস্কার এবং শিক্ষক সংকট দূর করার দাবিতে ফ্রান্সে স্কুলশিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।…

অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন কমানোর বড় পরিকল্পনা বিরোধীদের

অস্ট্রেলিয়ায় ক্ষমতায় গেলে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিসরে অভিবাসন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রধান বিরোধী জোট লিবারেল-ন্যাশনাল জোট। জোটটির নেতা অ্যাঙ্গাস টেলর জানিয়েছেন, সরকার গঠন করতে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au