বোলপুরে ‘ভাষা আন্দোলন’ অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৯ জুলাই- পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’ (বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার) ভারতের গণতন্ত্রের ভিত ধ্বংস করেছে। তিনি ঘোষণা দেন, এই সরকার ২০২৯ সালের আগেই মুখ থুবড়ে পড়বে।
সোমবার (২২ জুলাই) বীরভূম জেলার বোলপুর থেকে ‘ভাষা আন্দোলন’ কর্মসূচির সূচনা করে এক সমাবেশে এসব কথা বলেন মমতা। তিনি জানান, বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালিদের উপর নির্যাতন, বাংলা ভাষাভাষীদের হেনস্তা এবং জাতি-ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতি এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এসবের বিরুদ্ধে তিনি রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ গড়ে তুলবেন।
মমতা বলেন, “আমি কোনো ভাষার বিরোধী নই। কিন্তু বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও বাঙালিদের অসম্মান করলে, সেটা বরদাশত করব না। বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য—এই আমাদের গণতন্ত্রের ভিত্তি।”
তিনি অভিযোগ করেন, “দিল্লি থেকে গুজরাট, হরিয়ানা, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র—বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালিদের হেনস্থা করা হচ্ছে। বাংলা ভাষা বললেই হেনস্থা হতে হচ্ছে। এমনকি দিল্লিতেও গতকাল এমন ঘটনা ঘটেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি কখনো কোনো হিন্দিভাষীকে বাংলা ছাড়তে বলিনি। তাহলে বাঙালিদের বারবার কেন অপমানিত হতে হবে? বাংলা ভাষাকে অবমাননা করা হচ্ছে। অথচ বাংলা বিশ্বে প্রায় ৩০ কোটি মানুষের ভাষা।”
এনআরসি (জাতীয় নাগরিকপঞ্জি) প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “ওরা বলছে বাংলায় দেড় কোটি রোহিঙ্গা রয়েছে, যাদের নাম বাদ দেওয়া হবে ভোটার তালিকা থেকে। এত রোহিঙ্গা এলো কোথা থেকে? গুজরাটে বসে বাংলার ভোটার তালিকা তৈরি হচ্ছে! আমি বেঁচে থাকতে বাংলায় এনআরসি করতে দেব না। দরকার হলে জীবন দেব, ভাষা বা নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে দেব না।”
বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’-এর প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তার দাবি, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে মানুষকে ঠেলে পাঠানো হচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
সংখ্যালঘু ও দলিতদের ওপর নিপীড়নের কথাও তুলে ধরেন মমতা। তিনি বলেন, “মহারাষ্ট্রে সংখ্যালঘুদের খুন করা হচ্ছে, দলিতদের ওপর অত্যাচার চলছে। এই ভারতকে আমি চিনি না। সৌদি আরব বা মালদ্বীপে গেলে আপনি হিন্দু না মুসলমান, সেটা কেউ দেখে না। তাহলে এখানে এত বিভাজন কেন?”
এদিনের বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ছিল প্রতিবাদ, প্রতিজ্ঞা আর ভবিষ্যতের রাজনৈতিক রূপরেখার বার্তা। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষ্য, বাংলার মানুষ মাথা নত করবে না—”আমরা লড়াই করে বাঁচতে জানি, প্রয়োজনে জীবন দেব, কিন্তু ভাষা বা অধিকার ছেড়ে দেব না।”