যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৩১ জুলাই- ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আদায়ের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ১ আগস্ট থেকে এটি কার্যকর হবে।
বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন বলে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। এছাড়া, ১ আগস্ট থেকে ভারতকে জরিমানাও দিতে হবে বলে জানান তিনি। তবে কীসের জন্য এই জরিমানা বা এর পরিমাণ নিয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যদিও ভারত আমাদের বন্ধু, আমরা বছরের পর বছর ধরে তাদের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। কারণ তাদের শুল্ক অনেক বেশি, বিশ্বের সর্বোচ্চ। যেকোনো দেশের তুলনায় তাদের সঙ্গে বাণিজ্যে সবচেয়ে কঠিন ও বিরক্তিকর কিছু আর্থিক-বহির্ভূত বাধা রয়েছে।’
‘তারা সবসময় রাশিয়া থেকে সামরিক সরঞ্জামের একটি বিশাল অংশ কেনে এবং চীনের পাশাপাশি রাশিয়ার জ্বালানির সবচেয়ে বড় ক্রেতা। এটা এমন অবস্থায় যখন সবাই চায় রাশিয়া ইউক্রেনে হত্যাকাণ্ড বন্ধ করুক…’ বলেন তিনি।
তার এ ঘোষণার জবাব দিয়েছে ভারত। দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যা বলেছেন সেটি বিবেচনায় নিয়েছে ভারত সরকার। ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রভাব কী হবে সেটি নিরূপণ করছে সরকার। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একটি ন্যায্য, ভারসাম্যপূর্ণ এবং পারস্পরিকভাবে উপকারী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে আলোচনা করছে। আমরা ওই লক্ষ্যে এখনো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আছি।”
ভারতীয় মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, “ভারতের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। যেমনটা নেওয়া হয়েছে অন্যান্য চুক্তির ক্ষেত্রে। যারমধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিটি।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আওতায় একাধিক বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেন, যার মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো ও দেশীয় উৎপাদকদের রক্ষা করা। তিনি চীনসহ অনেক দেশের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছেন এবং ‘ভারতকে শুল্ক দেয়ালের পেছনে থাকা দেশ’ বলেও অভিযুক্ত করেছিলেন।
এই ঘোষণার পেছনে দুইটি প্রধান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। প্রথমত, ট্রাম্পের ঘরোয়া সমর্থকদের কাছে বিদেশি প্রতিযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বার্তা দেওয়া। দ্বিতীয়ত, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ককে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক আলোচনায় টেনে আনা।
নতুন এই শুল্ক কার্যকরের ফলে ভারতীয় পণ্যের যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, বিশেষত টেক্সটাইল, স্টিল, ফার্মাসিউটিক্যালস ও প্রযুক্তি পণ্য খাতে। পাশাপাশি, এতে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য অংশীদারত্বেও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত কেবল অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তাও বহন করে, যা বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে
সুত্রঃ রয়টার্স