বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা এরিকা ম্যাকএন্টারফা। ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ৩ আগষ্ট- যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের দুর্বল পরিসংখ্যান প্রকাশের পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শ্রম বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন। শুক্রবার (স্থানীয় সময়) তিনি অভিযোগ করেন, পরিসংখ্যান জালিয়াতি করা হয়েছে—তবে তার পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা ছিলেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিযুক্ত এরিকা ম্যাকএন্টারফার। তিনি মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো (BLS)-এর আওতায় কাজ করছিলেন।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই আরেকটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে যায়—ফেডারেল রিজার্ভ বোর্ডের গভর্নর আদ্রিয়ানা কুগলার আকস্মিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন, যার ফলে ফেডে ট্রাম্পের জন্য একজন নতুন মনোনয়ন দেয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
শুক্রবার প্রকাশিত BLS-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ৭৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। আরও উদ্বেগজনক বিষয় ছিল, মে ও জুন মাসের চাকরির সংখ্যা পূর্বের হিসাবের চেয়ে ২ লাখ ৫৮ হাজার কমিয়ে সংশোধন করা হয়। এই তথ্য প্রকাশের পরই শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। স্টক সূচক S&P 500 প্রায় ১.৬ শতাংশ হ্রাস পায়, যা দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন।
একটি Truth Social পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের সঠিক চাকরির তথ্য দরকার। বাইডেনের এই রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছি। তার জায়গায় আরও যোগ্য কাউকে আনা হবে।”
বেশ কিছু অর্থনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন, করোনার সময় থেকেই BLS-এর তথ্য সংগ্রহে সমস্যা শুরু হয় এবং এখনো তা পুরোপুরি সমাধান হয়নি। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, তথ্য সংগ্রহে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা কমছে, যার ফলে সামগ্রিক তথ্যের মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জুলাই মাসে জরিপে অংশগ্রহণের হার ৬৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২০২০ সালে ছিল ৮০ শতাংশের ওপরে।
রয়টার্সের একটি জরিপে দেখা যায়, ১০০ জন নীতি বিশেষজ্ঞের মধ্যে ৮৯ জনই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক তথ্যের মান নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, সরকার এই সমস্যা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না।
এদিকে কুগলারের পদত্যাগের মাধ্যমে ফেড বোর্ডে যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো, তা পূরণে ট্রাম্প নতুন একজন গভর্নর নিয়োগ দিতে পারবেন এবং এভাবেই তিনি ফেড চেয়ারের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বেও প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন। ফেড চেয়ার জেরোম পাওয়েলের মেয়াদ ২০২৫ সালের মে মাসে শেষ হচ্ছে, তবে তিনি চাইলে ২০২৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বোর্ডে থাকতে পারবেন।
নতুন গভর্নরের পদে কে আসবেন তা নিয়ে জল্পনা চলছে। সম্ভাব্য ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন—ট্রাম্পের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হ্যাসেট, সাবেক ফেড গভর্নর কেভিন ওয়ার্শ, বর্তমান ফেড গভর্নর ক্রিস ওয়ালার এবং ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট।
এ অবস্থায় বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্পের এই হস্তক্ষেপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। রুজভেল্ট ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ মাইকেল ম্যাডোভিটজ বলেন, “অর্থনৈতিক তথ্যকে রাজনীতির হাতিয়ার বানানো ভয়ংকর কাজ। এভাবে চলতে থাকলে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে এবং জনগণ বিভ্রান্ত হবে।”
সুত্রঃ রয়টার্স