মেলবোর্ন, ৪ আগষ্ট- গত বছরের এই সময়ে আমার যতদূর মনে পড়ে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের বিরাট বিরাট হ্যাডমদার লোকজনরা আমার উপর আমার ফেইসবুক পোস্টে চড়াও হয়ে চোটপাট দেখাচ্ছিল। কেউ কেউ “বড় ভাই বড় ভাই” বলে ইনবক্সেও হুমকি দিচ্ছিল। কারণ? কারণ আমি আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে তার এক সপ্তাহ আগ থেকে সতর্ক করে দিয়ে বলছিলাম যে তারা ছাত্র আন্দোলন minhandle করেছে এবং এর থেকে বের হয়ে আসার একমাত্র উপায় পদত্যাগ করে একটা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা।
কেন এই কথা আমি বলেছিলাম, সেটার জের ধরে আমাকে হেনস্তা করা হয়, বার বার বলা হয় কোন যুক্তিতে আমি মনে করি শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে। তারা আমাকে বলছিল সবকিছু “under control” এবং এইসব বিএনপি-জামায়েত আর টোকাইদের শায়েস্তা করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। ৪ তারিখে ছাত্রলীগ মাঠে নামলেই সব ঠান্ডা হয়ে যাবে।
আমি সেটা মনে করছিলাম না। আমি স্পষ্টতই জুলাইয়ের শেষে এসেই বুঝছিলাম আওয়ামী লীগের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব প্রায়। অগাস্টের শুরুতে সেনাপ্রধান যখন জুনিয়র অফিসারদের সাথে দরবার করলেন, এবং সেখানে কী আলোচনা হলো সেটা জানতে পারলাম, তখন এটি স্পষ্ট শেখ হাসিনাকে যেতে হবে। এটি যে কেবল আমি বুঝছিলাম তাই নয়, আমার যাদের সাথে দেশে যোগাযোগ হচ্ছিল, বাইরের বিশ্বে কথা হচ্ছিল, সব উচ্চশিক্ষিত, রাজনীতি সচেতন অধিকাংশ আওয়ামী লীগ সমর্থক “sensible” মানুষ, তারা সবাই তাই ভাবছিলেন। সমস্যাটা ছিল আওয়ামী লীগে sensible মানুষ তখন খুব কম। এবং এই পরিবর্তনটা হয়েছে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে। ২০০৮ এর আগেও দেশের অধিকাংশ বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক, শিক্ষক আওয়ামী লীগের পক্ষে ছিলেন। আমরা ভাবতাম দেশে রাজাকার থাকতে পারে, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি থাকতে পারে; কিন্তু দেশের যারা মাথা – তারা আওয়ামী লীগের পক্ষে, শেখ হাসিনার পক্ষে।
কী এক অদ্ভুত কায়দায় শেখ হাসিনা অত্যন্ত সফলতার সাথে এই প্রগতিশীল মানুষদের অধিকাংশের সমর্থন হারিয়েছিলেন দেড়যুগে। চাটুকাররা তাকে ঘিরে ধরেছিল। এবং এই প্রশ্নটি করা যায়, তিনি নিজেই সেটি চাইতেন সম্ভবত। রাষ্ট্র পরিচালনায় “সুশাসন” সংক্রান্ত বিচ্ছিন্ন কিছু ব্যর্থতা ছাড়া শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে দেড় যুগে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। ম্যাক্রো ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট, মাইক্রো ইকোনোমিতে সার্কুলার মানি ফ্লো এনশিওর করা, বিদেশি শক্তিগুলোর মধ্যে ব্যালেন্স রেখে ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টে নেতৃত্বস্থানীয় পর্যায়ে চলে যাওয়া, স্বাধীনতাযুদ্ধের মানবতাবিরোধী ও বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচার, মৌলবাদের উত্থানকে থমকে দেয়াসহ – তার সাফল্যের কোন সীমা পরিসীমা নেই।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জামায়েতের নেতৃত্বে ক্যাম্পেইন হয়েছে খুব সফলভাবে। ইউনুসের ১ বছরে ১০টা গুম হলে সেটা নিয়ে কোন আলোচনা হয় নাই, কিন্তু শেখ হাসিনার ১৫ বছরে ১০টা গুম হলে সেটা সারা বিশ্ব কাঁপিয়ে দিয়েছে। শহিদুল আলমের মতো পাকিবীর্যের সাথে কিছু mishandling নিয়ে সারা বিশ্বে আলোচনা হয়েছে, যেখানে এই পাকিবীর্যের জীবনের সবচেয়ে বড় কাজ হচ্ছে ১৯৭১ ও ৭১ পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধারা কীভাবে বিহারী আর পাকিস্তানিদের নির্যাতন করেছে সেই বিষয়ে মিথ্যাচার। কিছু গুম, খুন, হত্যাসহ নানা কিছু শেখ হাসিনার শাসনামলে হয়েছে, যা নিন্দনীয় কিন্তু যে পরিমাণে হয়েছে সেটা সারা বিশ্বের যে কোন দেশের তুলনায় মামুলি মাত্রার। কিন্তু একটি সংঘবদ্ধ চক্র সেটাকে তিল থেকে তাল বানিয়েছে সফলতার সাথে। শেখ হাসিনা সেটা জেনেও প্রতিকারের পথে হাঁটেননি সম্ভবত তার অতি অহংকারের কারণে।
বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্টতম ২টি মন্ত্রী পরিষদ ছিল শেখ হাসিনার ২০১৮ এবং ২০২৪ এর মন্ত্রী পরিষদ। শেষের দিকে মানুষ এমনকি জানতও না কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কে। কিছু মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানুষের তীব্র ক্ষোভ ছিল, অথচ শেখ হাসিনা তার পুরো সরকারের মেয়াদকালে তাদেরকে অপসারণ করেননি। মানুষ এটাকে তাদের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবেই নিয়েছে। নিয়মিত নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচন হয়নি, মানুষ যে এটা নিয়ে খুব চিন্তিত ছিল সেটি আমার কখনও মনে হয়নি, কারণ দেশ ভাল চলছিল, তর তর করে আগাচ্ছিল অর্থনীতি। কিন্তু মানুষের মতামতকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেবার যে প্রবণতা, জনগণকে গুরুত্ব না দিয়ে কিছু দলীয় প্রতিষ্ঠানের মাঠ পর্যায়ের সাথে সম্পৃক্ততাহীন মানুষের কথা শুনে দেশ চালানোর যে কায়দা সেটা মানুষকে হতাশ করেছে।
এই হতাশার সুযোগ নিয়েছে জামায়েত ইসলামী, ডিপস্টেটসহ বিরোধীশক্তিগুলো। তারা দীর্ঘদিন শেখ হাসিনাকে নিয়ে গবেষণা করেছে, তার ট্রিগার পয়েন্টগুলো আইডেন্টিফাই করেছে এবং জুলাই-অগাস্টে সেগুলো ব্যবহার করে তার মুখ দিয়ে এমন কথা বের করিয়ে ছেড়েছে যেটি দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ ঘৃণা করেছে। শেখ হাসিনার সেনা গোয়েন্দা সংস্থাসহ অন্যান্য রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা চলতে থাকা এই ষড়যন্ত্র রুখতে। সাথে সাথে ভারতের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যে শক্তিশালী গোয়েন্দা উপস্থিতি ছিল, তারা টাকা বানানোতে এত ব্যস্ত ছিল, তাদের ব্যর্থতা আরও ন্যাক্কারজনক।
ভারতের সাথে দেড়যুগে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে, দূরত্ব বেড়েছে মানুষের। ভারতের সাথে শক্তিশালী সম্পর্ক থাকলে দেশের কী লাভ, সেটি শেখ হাসিনা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও গণযোগাযোগ বিভাগগুলো মানুষকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়েত-ডিপ্সটেট অত্যন্ত সফলতার সাথে সেই ফেলানী থেকে প্রতিটি ইস্যুতে বাংলাদেশের মানুষকে ভারতের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ করতে সমর্থ হয়েছে। একই সময়ে প্রায় অহেতুকভাবে পাকিস্তানের সাথে রাষ্ট্রীয় দূরত্ব তৈরী করা হয়েছে, যেটি দৃষ্টিকটু ছিল। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এত অযোগ্য, অসহায় ও অপরিণত আর কোন সরকারের আমলে ছিল না। হাসান মাহমুদের মতো তৃতীয় শ্রেণীর একজন বক্তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া বুঝিয়ে দিয়েছিল শেখ হাসিনা সরাসরি আমেরিকাকে চ্যালেঞ্জ করছেন, এবং আমেরিকাকে চ্যালেঞ্জ করে টিকে থাকার ক্ষমতা এই মুহূর্তে সারা বিশ্বে ভারত, রাশিয়া আর চায়না ছাড়া আর কোন দেশের নাই – এই সামান্য বুদ্ধিটুকুও তাকে কেউ দেবার সৎ সাহস দেখায়নি।
গত জুলাই অগাস্টে গভীর ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু এই ষড়যন্ত্র আগেও হয়েছে। ২০০৮ বিপুল জনসমর্থন নিয়ে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ এর শুরুতেই বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে ষড়যন্ত্র, ২০১৩-১৪ তে হয়েছে স্বাধীনতাবিরোধীদের হেফাজত ষড়যন্ত্র, ২০১৮ তে হয়েছে নিরাপদ সড়ক চাই এবং কোটা বিরোধী আন্দোলন নিয়ে ষড়যন্ত্র। এই সবগুলো ষড়যন্ত্র তিনি সফলতার সাথে সামলে উঠলেও ২০১৮ সালের একই মডেলের ষড়যন্ত্র ২০২৪ সালে সামলে উঠতে পারলেন না। যে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির জন্য তিনি এতটা এডামেন্ট থাকলেন তারা কিন্তু নিজেদের স্বার্থে একফোঁটা ছাড় দেয়নি। ২০১৮ সালে কোটা বাতিলের পরেও ইগো থেকে তারা এটা নিয়ে বছরের পর বছর কোর্টে পড়ে থেকেছে এবং আমি খুব আশা করছিলাম জুলাইয়ে পতন অবশ্যম্ভাবী বোঝার পর তারা অন্তত শেখ হাসিনাকে যেয়ে বলবে আমরা কোটা চাই না, আপনি এটা নিয়ে আবার কেন মানুষকে হাইকোর্ট দেখাচ্ছেন? কিন্তু তারা সেটি করেনি।
হাইকোর্ট পরিষ্কার দিকনির্দেশনা দিয়ে বলেছিল কোটা পুনর্বহাল করা হোক, কিন্তু কত শতাংশ সেটা সরকার ঠিক করবে, তাদের পরামর্শের আর দরকার নেই। এই অংশটি জনগণের কাছে চেপে গিয়ে নাটক করা হয়েছে; ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতারণা করতে সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় ভুল হয়েছে ৫ দিনের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়া। উন্নত বিশ্বের তরুণ প্রবাসী বাংলাদেশি, যাদের ৭০% দেশ নিয়ে ২ পয়সার চিন্তাও করে না, তাদেরও ঐ সময়ে আমি পরিবার-বন্ধু নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে দেখেছি, চোখের পলকে সরকারের বিরুদ্ধে চলে যেতে দেখেছি।
তবুও শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ক্যারিশমার কারণে অনেকে ভাবছিল হয়ত তিনি ওই দফাও সামলে উঠবেন। শেখ হাসিনা সামলে উঠতে পারেননি। সেনাবাহিনী তাদের স্বাধীনতা পরবর্তী ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে এবং দেশ ধ্বংস হয়ে যাওয়া চেয়ে চেয়ে দেখেছে। শেখ হাসিনা তার প্রথম মেয়াদের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মুস্তাফিজের মেয়ের জামাই বিবেচনায় যে ওয়াকারকে সেনাপ্রধান নিয়োগ দেন, তার মেরুদণ্ডের ঘনত্ব তিনি বিবেচনা করেননি। চোখের সামনে শত শত ছাত্রদের গুলি করা হয়েছে যার ১ কিলোমিটারের মধ্যে কোন পুলিশ ছিল না, সেটা গোয়েন্দা সংস্থা প্রতিহত করতে পারেনি। এই ধরণের ভয়াবহ গোয়েন্দা ব্যর্থতা পৃথিবীর কয়টি রাষ্ট্রে এর আগে হয়েছে সেটি বিবেচনা করা দরকার।
৫ অগাস্ট ২০২৪ শেখ হাসিনার সরকারের পতন হলো। কিন্তু তারপর যা হলো সেটা হলো আরও অনভিপ্রেত। দেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে নিষ্ক্রিয় করতে নেমে গেল পরাজিত শক্তি। হাজার হাজার পুলিশ, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ কর্মীকে মেরে ফেলা হলো। দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হলো প্রায় ২ লক্ষ নেতাকর্মী। অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। সারা দেশের মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য, জাদুঘর, বঙ্গবন্ধুর অবয়ব ধ্বংস করা হয়, যার সূত্রপাত হয় প্রতিটি সেনানিবাসে। শেখ হাসিনার পতনের মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরিষ্কার হয়ে গেল এই আন্দোলন ছিল মূলত ১৯৭১ এর পরাজিত শক্তির প্রতিশোধ। এর বাইরে কিছুই না, কিচ্ছু না। দেশের লক্ষ সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বাংলাদেশকে ধ্বংস করার লীলাখেলায় মেতে ওঠে, যা অব্যাহত আছে। ইউনুস ক্ষমতা নিয়েই ৫ অগাস্ট থেকে ১৫ অগাস্ট ২০২৪ সমস্ত হত্যাকাণ্ডের ইনডেমনিটি ঘোষণা করে প্রমাণ করে সে স্বাধীনতাবিরোধীদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতেই দেশের ক্ষমতা দখল করেছে।
৫ অগাস্ট ২০২৪ বাংলাদেশ পরাজিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়া হয়েছে। মানবতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে যারাই সাক্ষ্য দিয়েছে তাদের গত ১ বছরে হত্যা করা হচ্ছে, নতুবা গ্রেফতার করা হচ্ছে। বিষয়গুলো দৃশ্যমান। এইসব কাজের বৈধতা ইউনুস ও জামায়েতকে দিচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, যারা শেখ হাসিনার একক উন্নয়ন ও ভারত-রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠতা মেনে নিতে পারেনি কখনও। বিনিময়ে তারা সেন্ট মার্টিন দখল করেছে, চট্টগ্রাম বন্দর দখল করেছে, মায়ানমারে করিডোর দিয়ে অস্ত্র পাচার করে চায়নাকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ইউনুস দেশকে ধ্বংস করার শর্ট টার্ম দায়িত্ব নিয়ে পালিয়ে যাবে। কিন্তু তারপর যদি বিএনপি আসে তারা এই ধাক্কা সামলে উঠতে পারবে না। আর যদি নির্বাচন না হয়ে জামায়েতের কোন সেনাপ্রধানের হাতে দেশ দেয়া হয়, তাহলে এই অঞ্চলে প্রথম আফ্রিকার মতো রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ আমরা দেখতে পাব।
পুরো ঘটনায় ভারতের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। ভারত অত্যন্ত স্বার্থপর একটি রাষ্ট্র। হাসিনার কাছে যা আদায় করার তা তারা আদায় করে নিয়েছিল। শুধু করিডোরটা বাকি ছিল। এখন যেহেতু তাদের আপাত প্রাপ্তির খাতা শূন্য, তাই তারা তেমন কিছু করছে না। কিন্তু সামনে অবস্থা এমন নাও থাকতে পারে। সবকিছু মিলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার বলেই মনে হচ্ছে। বর্তমানে অর্থনীতির যে চলমান স্থিতিশীলতা সেটা শেখ হাসিনার নেতৃত্বগুনের ধারাবাহিকতা মাত্র। এটি বেশিদিন টিকবে না। এরপর আসবে অন্ধকার। সেই অন্ধকারের জন্য বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত সেটা সময়ই বলে দিবে।
বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে ইউনুসকে ছুঁড়ে ফেলা ছাড়া কোন বিকল্প নাই। ইউনুসকে বাদ দিয়ে তারেক জিয়ার
মতো সন্ত্রাসী,আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি যদি রাষ্ট্র দায়িত্ব নেয়, সেটা হবে আরও খারাপ। দেশকে বাঁচিয়ে রাখার একমাত্র বিকল্প সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় ফেরা – যেটি সহসা হবে বলে মনে হচ্ছে না। এরপরের বিকল্প “মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের” কোন সেনাপ্রধানের রাষ্ট্র দায়িত্ব নেওয়া। সেটিও সম্ভব হবে বলে মনে করছি না। আপাতত সবার কাজ হওয়া উচিত দেশে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে গ্রামে-গঞ্জে, ইউনিয়নে, উপজেলায়, জেলায়, শহরে, মফস্বলে প্রতিহত করা। পরাক্রমশালী শেখ হাসিনা লক্ষাধিক মানুষ গণভবনে আসতে থাকলে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন; আর ১০ কোটি আওয়ামী লীগ সমর্থকরা সারা দেশে যদি ঘুরে দাঁড়ায়, কারও সামর্থ্য নাই ১৯৭১ এর বিজয়ী শক্তিকে প্রতিরোধ করার।
এই প্রতিরোধ শুরু হয়ে গেছে। খুব দ্রুত এর চাকা এমন পর্যায়ে যাবে যে জামায়েত-এনসিপির মতো স্বাধীনতাবিরোধীরা উড়ে যাবে। কেবল সময়ের অপেক্ষা।
জয় বাংলা।
লেখক- চিন্তাবিদ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ।