দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হেরেও মূলপর্বে বাংলার জয়ীতারা। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন ১১ আগস্ট- বাংলাদেশের নারী ফুটবলে সাফল্যের ধারা অব্যাহত। ইতিহাস গড়ার পথে আরও একটি মাইলফলক ছুঁয়ে এবার এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আফিদা খাতুনদের দল। গত মাসে ঋতুপর্ণারা প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের মূল পর্বে উঠেছিলেন, এবার অনূর্ধ্ব-২০ দলও দেখিয়েছে একই সম্ভাবনার ঝলক।
বাছাই পর্বে আটটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও সেরা তিন রানার্সআপকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে মূল পর্ব। বাংলাদেশ সেরা রানার্সআপদের মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে থেকে জায়গা নিশ্চিত করেছে।
গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে জিততে বা অন্তত ড্র করলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সরাসরি চূড়ান্ত পর্বে জায়গা হতো বাংলাদেশের। কিন্তু ১-৬ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়ায় ৬ পয়েন্ট ও +৫ গোল ব্যবধান নিয়ে আফিদাদের তাকিয়ে থাকতে হয় অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের দিকে।
‘ই’ গ্রুপে চীন ও লেবাননের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল বাংলাদেশকে ছিটকে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ওই ম্যাচ ড্র হলে লেবানন গোল ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে বাংলাদেশের পথ কঠিন করে তুলত। তবে চীনের বড় জয়ে লেবাননের গোল গড় দাঁড়ায় -৬, ফলে বাংলাদেশই এগিয়ে থাকে।
‘বি’ গ্রুপেও ছিল নাটকীয় সমীকরণ। কিরগিজস্তান যদি ভিয়েতনামকে হারাত, তাহলে তিন দলের মধ্যে সমান পয়েন্ট হতো এবং হেড-টু-হেড বিবেচনায় রানার্সআপ হিসেবে ভিয়েতনামের এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা ছিল। তবে ভিয়েতনামের ৩-০ গোলের জয়ে সে জটিলতা কেটে যায়, কারণ হংকংয়ের গোল গড় দাঁড়ায় -৩।
‘এফ’ গ্রুপে ইরানের অবস্থানও বাংলাদেশের জন্য হুমকি হতে পারত, কিন্তু ৬ পয়েন্ট পেলেও তাদের গোল গড় ছিল ঋণাত্মক। এ ছাড়া ‘এ’ ও ‘ডি’ গ্রুপের রানার্সআপদের পয়েন্ট ছিল মাত্র ৪, যা বাংলাদেশের চেয়ে অনেক পিছিয়ে।
তবে আরও কিছু ম্যাচ বাকি ছিল যেগুলো বাংলাদেশের চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারত। ‘সি’ গ্রুপে চাইনিজ তাইপের পয়েন্ট ৬ ও গোল গড় ৭। তারা যদি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই গোলের বেশি ব্যবধানে হেরে যেত, তাহলে তারা পিছিয়ে পড়ত বাংলাদেশের চেয়ে। আবার ‘জি’ গ্রুপে উজবেকিস্তান ও জর্ডানের পয়েন্ট ৬ হলেও তাদের গোল গড় যথাক্রমে ১৬ ও ১১—যা প্রায় নিশ্চিত করেছিল, উভয় দলই চূড়ান্ত পর্বে উঠবে, এমনকি পরস্পরের বিপক্ষে হারলেও।
সবশেষে, সব জটিল হিসাবের গড়মিল কাটিয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে এশিয়ার সেরা অনূর্ধ্ব-২০ দলের চূড়ান্ত পর্বে। যা দেশের নারী ফুটবলের ইতিহাসে আরও একটি অনন্য মাইলফলক।