সিলেটে হিন্দু মা-মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
সিলেটের জকিগঞ্জে নিজ বসতঘর থেকে মা ও চার বছরের মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের…
মেলবোর্ন, ১৪ আগষ্ট- বাংলাদেশের কৃষি খাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী আগ্রহের বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে জেনেটিক্যালি মোডিফায়েড অর্গানিজম (জিএমও) প্রবেশ করিয়ে কৃষি খাতকে নিয়ন্ত্রণে নিতে চায় এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে এই খাতে প্রবেশ করাবে।
বুধবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার জাতীয় প্রেস ইনস্টিটিউটে নাগরিক উদ্যোগ ও পিপলস হেলথ মুভমেন্ট আয়োজিত “বাংলাদেশের ভবিষ্যত নির্ধারণী উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তরণ ও দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ে সতর্ক পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন।
এতে আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ড. মোশাহিদা সুলতানা, ডা. জাহেদ মাসুদ, গওহর নইম ওয়ারা ও সালাউদ্দিন বাবলু। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বরকত উল্লাহ মারুফ, আর কারিগরি বিষয় উপস্থাপন করেন সানিয়া রিড স্মিথ।
ফরিদা আখতার বলেন, আমেরিকানদের সঙ্গে হওয়া আলোচনা থেকে স্পষ্ট, তারা বাংলাদেশের কৃষি খাতে জিএমও আনতে চায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, “কৃষিটা তারা দখলে নেবে এবং কোম্পানিগুলো চলে আসবে।” মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারে না থাকায় তিনি সরাসরি পদক্ষেপ নিতে পারছেন না বলেও জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় মতামত জানানোর সুযোগও সীমিত— “ব্রাজিল ও জাপান অনুরোধ করে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বলে— কথাই বলতে পারবে না, মানতেই হবে।” নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে এমন চুক্তি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়, আর এ কারণে তিনি নিজেকে অসহায় বোধ করছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের ট্যারিফ নীতির প্রভাব নিয়েও কথা বলেন ফরিদা আখতার। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাংস আমদানি করলে ৩০০ টাকায় বিক্রি সম্ভব হলেও বর্তমানে বাজারে গরুর মাংসের দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। কিন্তু আমদানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলে তা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় অভিযোগ হিসেবে গৃহীত হবে। যুক্তরাষ্ট্র এমনকি ৩০ হাজার মওলানা নিয়ে গিয়ে হালাল পদ্ধতিতে জবাই করে মাংস পাঠানোর প্রস্তাবও দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য দ্বিপাক্ষিক গোপন বাণিজ্য চুক্তিগুলো প্রকাশ করতে পারতো। এতে গোপন চুক্তি করার সংস্কৃতি বন্ধ হতো এবং একটি ইতিবাচক নজির স্থাপিত হতো।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au