রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
মেলবোর্ন, ১৮ আগষ্ট- রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনকে ‘শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা’ দিতে রাজি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। রোববার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এটি একেবারেই মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা।
ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে গত শুক্রবার আলাস্কায় বৈঠক করেন ট্রাম্প ও পুতিন। বৈঠক থেকে যুদ্ধবিরতির কোনো ঘোষণা আসবে বলে আশা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। পুতিন কোনো চুক্তি ছাড়াই মস্কো ফিরে যান। এদিকে আগে দ্রুত যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান নিলেও ট্রাম্প পরে সুর পাল্টে জানান, যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যেই হতে হবে।
এরই মধ্যে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ট্রাম্প। এতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানিসহ ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশের নেতারা অংশ নেবেন। তাঁদের জোর দাবি—যুদ্ধ বন্ধের যেকোনো চুক্তিতে ইউক্রেনের নিরাপত্তা বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে হবে।
এই পরিস্থিতিতেই পুতিনের অবস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন স্টিভ উইটকফ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউক্রেনকে শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার বিষয়টি মেনে নিয়েছেন পুতিন। তাঁর ভাষায়, “আমরা একমত হয়েছি যে ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশ কার্যকরভাবে অনুচ্ছেদ–৫–এর মতো ভাষা ব্যবহার করতে পারবে।”
উইটকফের ইঙ্গিত ছিল ন্যাটো জোটের বিধানের দিকে, যেখানে বলা হয়েছে কোনো সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে বাকি সবাই তাকে রক্ষায় এগিয়ে আসবে। বহু দিন ধরেই ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্য হওয়ার চেষ্টা করছে, তবে রাশিয়ার তীব্র আপত্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি। ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যুক্ত করার প্রচেষ্টাই ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত।
এখন ট্রাম্প–জেলেনস্কি বৈঠক নিয়ে নতুন আশাবাদ দেখছেন স্টিভ উইটকফ। তিনি বলেন, আলাস্কা বৈঠকের পর ফেরার পথে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তাই ওয়াশিংটনে সোমবারের বৈঠক ফলপ্রসূ হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে।
সুত্রঃ বিবিসি