সিলেটে হিন্দু মা-মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
সিলেটের জকিগঞ্জে নিজ বসতঘর থেকে মা ও চার বছরের মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের…
মেলবোর্ন, ৫ সেপ্টেম্বর- কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের ঝাউগাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে তরুণ সাংবাদিক আমিন উল্লাহর (২৩) লাশ। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মৃত্যুর আগে আমিন উল্লাহ আত্মহত্যার জন্য উখিয়া থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দায়ী করেছেন।
আমিন উল্লাহ কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বালুখালী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ–এর উখিয়া প্রতিনিধি ছিলেন।
প্রায় সাত মিনিটের ওই ভিডিওতে আমিন উল্লাহ অভিযোগ করেন, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। তিনি জানান, গত ২৫ জুলাই গভীর রাতে পুলিশ তাঁর বাড়িতে যায়। কয়েক দিন আগে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তাঁর ছোট ভাইকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি সরাসরি উখিয়া থানার ওসি আরিফ হোসাইনকে দায়ী করেন।
ভিডিওতে আমিন উল্লাহকে বলতে শোনা যায়, “পুলিশ আমাকে কেন খুঁজছে জানি না। ওসি আরিফ স্যারের উদ্দেশে বলছি, কোন অপরাধে আমার ছোট ভাইকে ধরেছেন? মামলা করার আগে তদন্ত করা উচিত ছিল। কয়েক দিন যাবৎ আমি বাসায় থাকতে পারতেছি না। সাংবাদিক হিসেবে নিউজ করা—এটা কি আমার অপরাধ?” একপর্যায়ে তিনি বলেন, “অত্যাচার বন্ধ না হলে আমি আত্মহত্যার পথ বেছে নেব। আমি যদি আত্মহত্যা করি, এর দায়ভার থাকবে উখিয়া থানা–পুলিশের।” এ সময় তিনি প্রধান উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী ও র্যাবের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অন্যদিকে সম্প্রতি রামু থানায় বদলি হওয়া ওসি আরিফ হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, “ভিডিওটি আমি ফেসবুকে দেখেছি। সাংবাদিক আমিনকে আমি চিনি না, কখনো তাঁর সঙ্গে কথা হয়নি। ভিডিওটি পরিকল্পিতভাবে করা হতে পারে।” তিনি দাবি করেন, ছাত্রলীগের মিছিল ও ইয়াবা লুটের ঘটনায় পুলিশের অভিযান হলেও আমিন উল্লাহকে ধরতে তাঁর বাড়িতে যাওয়া হয়নি।
নিহত আমিনের মা আয়েশা খাতুন অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ন্যায্য বিচার চান। স্বামীর মৃত্যু আগেই হয়েছে, এখন তিনি আমিনের স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে একতলা বাড়িতে থাকেন।
স্থানীয় কয়েকজন বন্ধু জানান, দেড় বছর আগে একটি এনজিওতে চাকরি করার পর আমিন সাংবাদিকতা শুরু করেন। তাঁদের মতে, আত্মহত্যা বা হত্যার পেছনে প্রেমঘটিত সম্পর্ক বা ইয়াবার চালান লুটের ঘটনার জের থাকতে পারে।
এ বিষয়ে উখিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমিন উল্লাহর মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছে। তবে আসল কারণ এখনো পরিষ্কার নয়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ইলিয়াস খান বলেন, সৈকতের ঝাউগাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন নেই। তাঁর কাছে পাওয়া গেছে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী একটি বাসের টিকিট, যাতে সময় লেখা বুধবার রাত ৯টা ২০ মিনিট। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রেমঘটিত কোনো বিষয় বা হত্যার অভিযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সুত্রঃ প্রথম আলো
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au