পাকিস্তান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস (PAS)
মেলবোর্ন, ২৩ সেপ্টেম্বর- পাকিস্তানের দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল এর খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার প্রশাসনিক সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো আজ (সোমবার), যখন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্মের পর প্রথমবারের মতো পাকিস্তান সফরে লাহোরে পৌঁছেছে।
প্রতিনিধি দল পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস একাডেমি (CSA) তে একদিনব্যাপী কর্মসূচিতে অংশ নেবে। এ সময় তারা পাকিস্তান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস (PAS)-এর জ্যেষ্ঠ শিক্ষকবৃন্দ ও প্রশিক্ষণরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মত বিনিময় করবেন, যা দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিম-উল-গানীর নেতৃত্বে সফরকারী দলে রয়েছেন ডিএমপি’র অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. রেজাউল করিম, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জান্নাতুল হাসান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের উপসচিব মো. মাহবুবুর রহমান। কর্মকর্তারা এ সফরকে অভূতপূর্ব সুযোগ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যা আধুনিক প্রশাসনিক কৌশল বিনিময় ও যৌথ ঐতিহ্যের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে।
পাকিস্তান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস ক্যাম্পাসে পৌঁছালে প্রতিনিধি দলকে অভ্যর্থনা জানান CSA’র মহাপরিচালক ফারহান আজিজ খাওয়াজা, ড. ফয়সাল জাহুর, উসমান আলী এবং মুহাম্মদ জাফর আলী খান। সফরে অতিথিদের পাকিস্তানের সিভিল সার্ভিস প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার বিবর্তন নিয়ে ব্রিফ করা হবে, যেখানে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs), ডিজিটাল রূপান্তর, প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ এবং জনবান্ধব সেবা প্রদানের মতো সমকালীন প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হবে।
প্রতিনিধি দলটি ৪৮তম স্পেশালাইজড ট্রেনিং প্রোগ্রামের প্রশিক্ষণরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ে অংশ নেবে। আলোচনার মূল বিষয়বস্তু থাকবে আঞ্চলিক শাসনব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ যেমন জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, জননিরাপত্তা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন।
আনুষ্ঠানিক সেশনের পাশাপাশি অতিথিদের জন্য পাকিস্তান হস্তশিল্প প্রদর্শনী পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে, যা পাঞ্জাব স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (PSIC)-এর সহায়তায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কাঠের নকশা থেকে শুরু করে হ্যান্ডলুম টেক্সটাইল পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হবে, যা পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্প ও ঐতিহ্যকে সৃজনশীল অর্থনীতি ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনায় রূপান্তরিত করতে পারে বলে কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে একাডেমি বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলকে উপমহাদেশের প্রশাসনিক ইতিহাসবিষয়ক গ্রন্থসমূহ উপহার দেবে। এর মাধ্যমে এক যৌথ ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও আঞ্চলিক উৎকর্ষতাকে কেন্দ্র করে নতুন প্রশাসনিক সহযোগিতার দিগন্ত উন্মোচনের বার্তা দেওয়া হবে।
দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে উপহার বিনিময় ও সহযোগিতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে। উভয় দেশের কর্মকর্তারা পাকিস্তানের PAS এবং বাংলাদেশের এলিট ক্যাডারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রতিশ্রুতি দেবেন।
পর্যবেক্ষকরা সফরটিকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার জটিল শাসনব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এ ধরনের প্রশাসনিক বিনিময় নতুন নীতি উদ্ভাবনের পথ খুলে দিতে পারে।
আজকের এই ঐতিহাসিক সফর ভবিষ্যতে পেশাগত বিনিময়, গবেষণা সহযোগিতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মসূচির ভিত্তি স্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: The News, পাকিস্তান | প্রতিবেদক: আসিফ মাহমুদ বাট | ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫