সর্বশেষ

রোহিঙ্গাদের গ্রাম গুঁড়িয়ে সেনাঘাঁটি বানিয়েছে মিয়ানমার সেনারা

  • 4:37 am - September 30, 2025
  • পঠিত হয়েছে:৮২ বার
ছবি : সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৩০ সেপ্টেম্বর- ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর দমন অভিযান চালিয়ে লাখ লাখ মানুষকে বিতাড়িত করার পর মিয়ানমার সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের গ্রাম ও ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস করে সেখানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে। জাতিসংঘের সমর্থনে পরিচালিত একটি নতুন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের উদ্যোগে ২০১৮ সালে গঠিত ইনডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার (আইআইএমএম) আজ সোমবার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, স্যাটেলাইট ছবি, ভিডিও ফুটেজ ও সরকারি নথি ব্যবহার করা হয়েছে।

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে পুলিশ চৌকিতে সশস্ত্র হামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১২ জন সদস্য নিহত হওয়ার পর সেনাবাহিনী ব্যাপক দমন অভিযান শুরু করে। এতে কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গা ঘরবাড়ি ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘ এই অভিযানে সংঘটিত সহিংসতাকে ‘জাতিগত নিধনের আদর্শ উদাহরণ’ বলে অভিহিত করে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী জানত রোহিঙ্গাদের জমির মালিকানা ও অধিকার আছে। তবুও সরকারি চুক্তির আওতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকদের দিয়ে রোহিঙ্গা বসতি, মসজিদ, কবরস্থান ও কৃষিজমি ধ্বংস করা হয়। এরপর সেসব স্থানে নতুন সড়ক, স্থায়ী ভবন, নিরাপত্তা কম্পাউন্ড ও এমনকি হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে ইন দিন গ্রামকে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে রোহিঙ্গা বসতি ধ্বংস করে সামরিক স্থাপনা তৈরি করা হয়। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে রয়টার্স জানিয়েছিল যে ইন দিন গ্রামে ১০ জন রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছিল।

সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের কাছে প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি সাড়া দেননি। তবে মিয়ানমার সেনারা আগেও দাবি করেছে, তারা গণহত্যা চালায়নি, কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ে অপরাধ হয়ে থাকতে পারে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর মিয়ানমার জুড়ে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। বর্তমানে রাখাইন রাজ্যে সংঘাত আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে। এতে রোহিঙ্গারা ফের সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিপীড়নের শিকার হয়ে সংখ্যালঘু এই জনগোষ্ঠীর কিছু অংশ এখন অস্ত্র হাতে তুলে নিচ্ছে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আগের দিন। বৈঠকে বাংলাদেশের শরণার্থীশিবিরে ক্রমবর্ধমান চাপ ও রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অচলাবস্থা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে

সুত্রঃ রয়টার্স

এই শাখার আরও খবর

ছাত্রলীগ নেতার পরিবারের পাঁচ সদস্য ও তিন বন্ধুসহ গ্রেপ্তার ৮

সুনামগঞ্জে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতার পরিবারের পাঁচ সদস্য এবং তাঁর তিন বন্ধুসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে ওই ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার…

‘চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থী দেবেন, নলা নিয়ে বাড়ি যেতে পারবেন না’: সংসদ সদস্য

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব সংসদ সদস্যের বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম…

শেষনিশ্বাস পর্যন্ত দেশসেবা করতে চান, অবসরের জল্পনা উড়িয়ে দিলেন মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখনই রাজনীতি থেকে অবসরের কথা ভাবছেন না, এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দেশ ও দেশের মানুষের সেবায়…

অভিযোগ জানাতে থানায় গিয়ে পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ নারীর

ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের সেরাইকেলা-খারসাওয়ান জেলায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে থানার ভেতরেই এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন এক নারী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করেছে…

সৌদিতে গলাটিপে হত্যার পর মরুভূমিতে বালুচাপা, অবশেষে জসিমের মরদেহ এলো দেশে

ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন চাঁদপুরের জসিম উদ্দিন। স্বপ্ন ছিল, প্রবাসে পরিশ্রম করে স্ত্রী ও তিন মেয়ের ভবিষ্যৎ…

তাহসিফের বান্ধবী দিশা গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে, কে এই রহস্যময়ী তরুণী?

ওটিএন বাংলা রিপোর্ট :  বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসছে। এবার আলোচনায় এসেছেন ১৯…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au