শ্রমিক অসন্তোষে ৫২৯ কারখানা থেকে শ্রমিকদের বেরিয়ে যাওয়া, কাজে অনুপস্থিত প্রায় ১০ লাখ
দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের জেরে ৫২৯টি কারখানা থেকে শ্রমিকেরা বের হয়ে গেছেন। এসব কারখানার প্রায় ৯ লাখ ৮৭ হাজার শ্রমিক কাজে যোগ দেননি। সবচেয়ে…
সুনামগঞ্জে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতার পরিবারের পাঁচ সদস্য এবং তাঁর তিন বন্ধুসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে ওই ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার সময় পুলিশের ওপর হামলা চালান গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা। শনিবার (৩১ অক্টোবর) মধ্যরাতে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স (২০), তাঁর বাবা দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী (৪৬), মা শাম্মী আক্তার পলি (৪০), ভাই দেওয়ান শাহরিয়ার চৌধুরী পিয়াল (১৮) এবং বোন সাবরিনা চৌধুরী রূপকথা (১৬)। প্রিন্সের তিন বন্ধু হলেন সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদেশ্বর গ্রামের তাকবির রহমান তানহির (২০), ছাতক উপজেলার জালালপুর গ্রামের কাওসার আহমদ সোহাগ (২১) ও দিরাই উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের ইফাত আলম রাবিদ (২১)।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে তাঁদের সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালত সাতজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় প্রিন্সের বোন সাবরিনা চৌধুরী রূপকথার বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য তাঁকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে আসামিদের পক্ষে কেউ জামিনের আবেদন করেননি।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নতুনপাড়া এলাকা থেকে প্রিন্সকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে সিলেট নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে চিকিৎসার সুযোগ নিয়ে হাসপাতালের ভেতরে পুলিশ হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করেন প্রিন্স। এ সময় তাঁর পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা চালান। তাঁরা সরকারি কাজে বাধা দিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে প্রিন্সকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং পুলিশ সদস্যদের মারধর করেন।
এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফরিদ হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর শনিবার রাতে সিলেটের ওই বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সুনামগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক অজয় চন্দ্র দেব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় সাবরিনা চৌধুরী রূপকথা ছাড়া বাকি সাত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
তবে পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রিন্সের বাবা দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী। তাঁর দাবি, অভিযোগটি মিথ্যা ও সাজানো।
আটকের পর তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে প্রিন্সকে থানায় নেওয়া হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে তিনি ও তাঁর স্ত্রী হাসপাতালে যান। সেখানে দায়িত্বরত দুই উপপরিদর্শকের কাছে জানতে চান, আটকের এক ঘণ্টার মধ্যে কী ঘটেছিল যে তাঁর ছেলেকে হাসপাতালে নিতে হলো।
শাহরুখ রাজা চৌধুরীর ভাষ্য, তাঁর স্ত্রী তখন পুলিশ সদস্যদের বলেন, সুস্থ ছেলেকে আটক করে থানায় নেওয়ার পর কেন অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাঁকে থানায় মারধর করা হয়েছে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, একপর্যায়ে পুলিশ প্রিন্সকে তাঁদের জিম্মায় দিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে যায়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে প্রথমে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যেই তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়। তাঁর দাবি, ওই মামলায় শনিবার রাতে হাসপাতাল থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রতন শেখ বলেন, প্রিন্সের বিরুদ্ধে নাশকতার দুটি মামলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তারের পর অসুস্থ বোধ করলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার সুযোগ নিয়ে তিনি হাসপাতালের ভেতরে পুলিশ হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করেন।
ওসি আরও বলেন, এ সময় প্রিন্সের পরিবারের সদস্য ও সহযোগীরা জড়ো হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালান। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au