যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো (ওপরে বাঁ থেকে)। ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ৪ অক্টোবর- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২৯ সেপ্টেম্বর ঘোষিত ২০ দফা শান্তি প্রস্তাব ও হামাসের তা আংশিক গ্রহণকে বিশ্বনেতারা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন — অনেকে এটি গাজা সংঘর্ষ বন্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে অভিহিত করেছেন।
প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতি, বন্দি–বিনিময়, গাজা থেকে ইসরায়েলি জোরদার সেনা প্রত্যাহার (ধাপে ধাপে) এবং গাজার অস্থায়ী প্রশাসনের জন্য আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানের কথা বলা হয়েছে; একই সঙ্গে পরিকল্পনাটি ভবিষ্যতে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের পথও রেখে দেয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেই প্রস্তাবে ইতোমধ্যে সমর্থন জানিয়েছেন।
হামাস মার্কিন প্রস্তাব আংশিকভাবে গ্রহণ করেছে বলে জানানো হয়েছে — সংগঠনটি বন্দিবিনিময়ের প্রক্রিয়া মানার শর্তে জীবিত ও মৃত সব জিম্মি মুক্তি দিতে রাজি থাকলেও, গাজার ভবিষ্যৎ শাসন ব্যবস্থা, ক্ষমতার ভাগাভাগি ও অস্ত্রপাত প্রশ্নে আরও আলোচনা চাইছে। এই ঘোষণার পর ট্রাম্প বলেন, এখনই ইসরায়েলকে বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে হবে যাতে নিরাপদভাবে বন্দির মুক্তি ও আলোচনা সম্ভব হয়।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে তিনি সমর্থন করেন এবং এখনই একটি সম্বদ্ধ যুদ্ধবিরতি ও বন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত করাই প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ট্রাম্পের উদ্যোগকে “গভীরভাবে স্বাগত” জানিয়ে বলেছেন—এটি শান্তির দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এবং এখন সব পক্ষকে দেরি না করে চুক্তি কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ ক্যানবেরার পক্ষ থেকে ট্রাম্পের পরিকল্পনার অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে হামাসকে প্রস্তাব গ্রহণ ও অবিলম্বে বাকি জিম্মিদের মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো বলেছেন, তিনি এবার ট্রাম্পের সঙ্গে একমত এবং মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা ও দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়া।
বিশ্ব রাজনীতিতে—উদাহরণস্বরূপ রাশিয়া ও জাতিসংঘ—এখনও তারা ঘটনার বাস্তবায়ন ও সকল পক্ষের প্রতিশ্রুতি পালনের ওপর জোর দিচ্ছে; সুরাহার ক্ষেত্রে বাস্তব পদক্ষেপ ও প্রমাণী উদ্যোগ প্রয়োজন হবে, না হলে প্রস্তাব শূন্যচেষ্টাই হয়ে যেতে পারে।
বিশ্বনেতাদের প্রশংসা ও হামাসের আংশিক সম্মতি—উভয়ই ইতিবাচক সঙ্কেত। কিন্তু মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কিভাবে দ্রুত ও নিশ্চিতভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে, জিম্মিদের নিরাপদ মুক্তি ঘটবে কি না এবং গাজার ভবিষ্যত শাসন ও হামাসের অস্ত্রত্যাগ–নিরস্ত্রীকরণের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোর সমাধান কীভাবে অর্জিত হবে — এগুলোই এখন সময়সাপেক্ষ ও জটিল আলোচনা দাবি করে।
বিশ্বনেতাদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও হামাসের আংশিক সম্মতি—এগুলো গাজায় দীর্ঘায়িত সংঘর্ষ শেষ করতে একটি বিরল কনজাংকচারের ইঙ্গিত দেয়। তবু সাফল্য নিশ্চিত করতে এখন দরকার কড়া কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, তাত্ক্ষণিক মানবিক সহায়তা, এবং সব পক্ষের কাছ থেকে বাস্তব প্রতিশ্রুতি। ভবিষ্যৎ পদক্ষেপগুলোই সিদ্ধান্ত করবে এই মুহূর্তের আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি কতটা স্থায়ী হবে।
সুত্রঃ আল–জাজিরা ও বিবিসি