মেলবোর্ন, ১৮ অক্টোবর- বিশ্বের খাদ্য সঙ্কটে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে গাজায়। যুদ্ধ, অবরোধ এবং অব্যাহত সহিংসতার কারণে দুর্ভিক্ষ (famine) অবস্থার প্রভাব ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, তবে এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার জন্য বড় প্রস্তুতি, দ্রুত ত্রাণ এবং অত্যাধিক মানবিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি সংক্রামক রোগের ছড়িয়ে পড়া ত্বরান্বিত হচ্ছে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা, বৃদ্ধ এবং অপুষ্ট ব্যক্তিরা।
Integrated Food Security Phase Classification (IPC) জানিয়েছে যে গাজা সিটি ও তার আশপাশে দুর্ভিক্ষ প্রমাণিত হয়েছে। প্রায় একটি-চতুর্থাংশ মানুষ দুর্ভিক্ষ-সদৃশ পরিস্থিতিতে রয়েছে যেখানে খাবার অত্যন্ত সীমিত। UNEP, WHO, FAO, UNICEF এবং WFP সহ একাধিক সংস্থা বলেছে, খাদ্য, পানীয় জল, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সহায়তায় বাধা থাকায় দ্রুত ও ব্যাপক মানবিক হস্তক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতি আরও নাজুক হবে।
সংক্রামক রোগ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিঃ
- WHO বলছে যে পুষ্টিহীনতার কারণে সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রেও সাধারণ রোগগুলো এখন মৃত্যুদায়ক হচ্ছে বিশেষ করে ডায়রিয়া, শ্বসনজনিত রোগ, এবং শিশুমৃত্যু বেড়ে চলেছে।
- পানি ও টয়লেট/স্বাস্থ্য পরিষেবার ভঙ্গ: পানীয় জল নিরাপদ নয়, স্বাস্থ্যসেবা ও হাসপাতালগুলি প্রচলিতভাবে কাজ করতে পারছে না। টয়লেট, স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্নতার অভাব সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
- Guillain-Barré Syndrome (GBS) এর মতো প্যারালিটিক রোগের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে যেখানে জীবাণু প্রবণতার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। অভাবনীয় ভাইরাল সংক্রমণ, নিম্ন Vaccination কভারেজ, ওষুধ ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভাব সব মিলিয়ে সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করছে রোগের বিস্তারের জন্য।
ত্রাণপথ অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা সীমাবদ্ধ রয়েছে; সীমান্ত গেট বন্ধ থাকার কারণে খাদ্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত সামগ্রী দ্রুতগতি পৌঁছায় না উত্তরাঞ্চলসহ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায়।
অবকাঠামোর ক্ষয়, হাসপাতালের অবস্থা খারাপ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অভাব এসব মিলিয়ে শুধু খাদ্য জোগানোই যথেষ্ট নয়; পানি, চিকিৎসা, স্বচ্ছল পরিবহন ও সংশ্লিষ্ট সামগ্রীর প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
UN প্রশাসন বলেছে যে সময় দ্রুতই ফুরিয়ে আসছে – যদি অবিলম্বে সিज़ফায়ার (ceasefire) এবং সহায়তার প্রবাহ বাড়ানো না হয়, তাহলে দুর্ভিক্ষ আরও ব্যাপক আকার নেবে এবং মৃত্যু বাড়বে।
শিশুরা ও বোর্ড-গর্ভবতী মহিলা ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অপুষ্টির কারণে তাদের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হবে, সহজ রোগও প্রাণঘাতী হতে পারে।দ্রুত মৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার বাড়তে পারে; প্রতিকূল পরিবেশে নতুন ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, রাষ্ট্র ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে তৎক্ষণাৎ সরল ও অবাধ সহায়তার প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে: খাদ্য, মেডিসিন, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন।অবিলম্বে যুদ্ধ বিরতি এবং সব প্রবেশপথ খুলে দিতে হবে যেসব গেট এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে।
সুত্রঃ আল–জাজিরা