কামাল উদ্দিন বাবুল, আরজু ও আরিশা। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৮ জুন- ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মো. শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে তার ছবি প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রোম পুলিশ।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) রাত প্রায় ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও সড়কের একটি পার্কসংলগ্ন আবাসিক ভবনে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী আরজু (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী কন্যা আরিশা। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের ১৮ বছর বয়সী ছেলে অয়ন, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দেশে থাকাকালীন সময় থেকেই আরজুর সঙ্গে শাহাদাত হোসেনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। কয়েক বছর আগে পারিবারিক অশান্তির জেরে কামাল উদ্দিন স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ইতালিতে চলে যান। অন্যদিকে, শাহাদাত প্রথমে যুক্তরাজ্যে গেলেও পরে ইতালিতে বসবাস শুরু করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার দিন পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে দুই পক্ষ বৈঠকে বসেন। একপর্যায়ে তর্ক-বিতর্কের জেরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে কামাল উদ্দিন, আরজু ও তাদের কন্যা আরিশা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত অয়ন প্রাণ বাঁচাতে ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তা চান।
ঘটনার পর অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেনের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ওই স্ট্যাটাসে মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কিছু মন্তব্য করা হয়, যা তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখছে ইতালির পুলিশ।
শনিবার (২৭ জুন) রোম পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাহাদাত হোসেনের ছবি প্রকাশ করে তাকে ট্রিপল মার্ডার মামলার প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করেছে। পাশাপাশি তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
শাহাদাতের বড় ভাই ইসমাইল হোসেন হারুন জানান, প্রায় চার বছর আগে শাহাদাত পরিবার নিয়ে যুক্তরাজ্যে চলে যান। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার খুব একটা যোগাযোগ ছিল না। সাম্প্রতিক সময়েও তার সঙ্গে কোনো কথা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, নিহত কামাল উদ্দিনের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রায় এক বছর আগে তার ছেলে দেশে এলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে একটি উড়ো চিঠি পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি সে সময় মৌখিকভাবে কোম্পানীগঞ্জ থানাকে জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
ইতালীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে পার্ক এলাকা থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, ধারালো অস্ত্রের আঘাতেই তাদের হত্যা করা হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুল হাকীম বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার আগে মৌখিকভাবে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ জানিয়েছিল। এরপর পুলিশ নিয়মিত টহলের মাধ্যমে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছিল। তবে ইতালিতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখন দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই পরিচালনা করছে।