মেলবোর্ন, ১৯ অক্টোবর- ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন – তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র টমাহক সরবরাহের প্রতিশ্রুতি নিয়ে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা রেখে দেশে ফিরেছেন না, ফলে তিনি কর্মসূচি শেষে ‘শূন্য হাতে’ ফিরে এসেছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
জেলেনস্কি এ সময় যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছিলেন, যদি টমাহক সরবরাহ করা হয় তাহলে তা রাশিয়াভিত্তিক তেল ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে টার্গেট করে রুশ যুদ্ধযজ্ঞের অর্থনৈতিক ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে সাহায্য করবে , এমন অবস্থায় তিনি মনে করেন, এটি পুতিনের যুদ্ধ অর্থনীতিকে বড় আঘাত দিতে পারে। তবে হোয়াইট হাউস থেকে তিনি টমাহক পেয়ে ফেরেননি; ট্রাম্প আশাপ্রকাশ করেছেন যে ভবিষ্যতে এ ধরনের অস্ত্রের প্রয়োজন নাও হতে পারে এবং তিনি আশা করেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে।
বৈঠকের পর প্রকাশিত বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, টমাহক সরবরাহের সিদ্ধান্ত একটি নীতিগত ও কৌশলগত ইস্যু যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের সঙ্গে জড়িত তাই সরাসরি ওৎপাতে তা সহজে নেয়া যাবে না। একাধিক পর্যবেক্ষক মনে করেন, টমাহক বিতরণকে কেন্দ্র করে ইউক্রেন ও মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে আলোচনার ধরণ ভবিষ্যতে সামরিক সহযোগিতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
ইউক্রেনের অভ্যন্তরে জেলেনস্কির ফেরার খবর নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে কিছু মহল হতাশা প্রকাশ করেছে যে দ্রুত ফল মেলেনি, আবার কেউ কেউ বলছেন কূটনৈতিক জায়গায় বড় সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সময় নেয়াটাই বাস্তববাদী। সংবাদমাধ্যমগুলোও জানিয়েছে যে জেলেনস্কির সৈন্যসহ দেশের নিরাপত্তা চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্র সহ ইউরোপীয় অংশীদারদের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, টমাহক হচ্ছে এক ধরণের পরীক্ষা-প্রমাণিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র যা দীর্ঘ দূরত্বে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম; তাই এর সরবরাহ নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছিল তা কেবল সরাসরি অস্ত্রপ্রদান নয়, বরং যুদ্ধনীতিগত ও কূটনৈতিক গুরুত্বও বহন করে। এই বিতর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমর্থক ও সমালোচক উভয়ধরনের যুক্তিই সামনে এসেছে।
সূত্র : বিবিসি