আবারও কাঁপল ভেনেজুয়েলা, মৃত ৯২০, নিখোঁজ ৫০ হাজারের বেশি
মেলবোর্ন, ২৮ জুন- দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও কেঁপে উঠেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। বুধবার সন্ধ্যায় ৭ দশমিক ২ ও…
মেলবোর্ন, ২৫ অক্টোবর- ফ্রান্সে আলোচিত ১২ বছর বয়সী লোলা ডেভো হত্যা মামলায় অভিযুক্ত নারী দাহাবা বি.-কে আদালত বিরল এক দণ্ড-“হোল লাইফ টার্ম” বা আজীবন কারাবাসের শাস্তি দিয়েছে। ফরাসি আদালতের ইতিহাসে এই ধরনের শাস্তি খুব কম ক্ষেত্রেই দেওয়া হয়, যা মানে হলো-তিনি জীবনের বাকি সময় কারাগারেই কাটাবেন, কোনো মুক্তির সুযোগ থাকবে না।
এই রায়কে ফ্রান্সজুড়ে “ন্যায়বিচারের প্রতীকী মুহূর্ত” হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ২০২২ সালে লোলার নির্মম হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের জন্ম দিয়েছিল।
২০২২ সালের অক্টোবরে প্যারিসের একটি অ্যাপার্টমেন্টের ভেতর থেকে স্কুলছাত্রী লোলা ডেভোর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, তাকে নির্যাতন, শ্বাসরোধ ও পরবর্তীতে প্লাস্টিকের বাক্সে ভরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি ঘটান ২৪ বছর বয়সী এক নারী, দাহাবা বি., যিনি অবৈধভাবে ফ্রান্সে অবস্থান করছিলেন।
আদালতের শুনানিতে প্রমাণিত হয়, অভিযুক্ত নারী লোলাকে তাদের বাসার সামনে থেকে ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং অজানা কারণে নির্মমভাবে হত্যা করেন।
প্যারিসের ক্রিমিনাল কোর্টের বিচারক রায়ে বলেন, “এই হত্যাকাণ্ড ছিল পরিকল্পিত, অমানবিক ও অত্যন্ত নৃশংস। এমন অপরাধের জন্য সমাজে ক্ষমার স্থান নেই।” আদালত তাই সর্বোচ্চ দণ্ড হিসেবে হোল লাইফ টার্ম ঘোষণা করে।
এই শাস্তির অর্থ হলো- অভিযুক্ত ব্যক্তি প্যারোল বা দয়া প্রার্থনার কোনো সুযোগ পাবেন না। ফ্রান্সে এ ধরনের দণ্ড কেবলমাত্র ব্যতিক্রমী গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রেই দেওয়া হয়।
লোলার মৃত্যু ফ্রান্সে অভিবাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। অনেকেই দাবি করেন, অবৈধভাবে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, কিছু মানবাধিকার সংগঠন বলেছে, এই ঘটনাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
লোলার পরিবার আদালতের রায়ের পর বলেন, “ন্যায়বিচার পেয়েছি। কিন্তু আমাদের মেয়ে আর ফিরে আসবে না। আমরা শুধু চাই, যেন আর কোনো পরিবার এমন দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি না হয়।”
ফরাসি প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল অ্যাটাল এক বিবৃতিতে বলেন, “লোলার জন্য বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এই রায় আমাদের সমাজে ন্যায়বিচারের প্রতি বিশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করবে।”
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রায় শুধু অপরাধের ভয়াবহতা নয়, বরং ফ্রান্সে বিচারব্যবস্থার কঠোরতারও প্রতীক। ইউরোপে এমন “হোল লাইফ টার্ম” দণ্ড খুবই বিরল এবং সাধারণত সন্ত্রাসবাদ, গণহত্যা বা শিশু হত্যার মতো ঘটনায়ই তা দেওয়া হয়।
সূত্র: রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au