মেলবোর্ন, ২৬ অক্টোবর- আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সীমান্ত সংঘাত কমাতে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান পারস্পরিক যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে। শনিবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধি দল এই অঙ্গীকার প্রকাশ করে।
বৈঠকটি আয়োজিত হয় তুরস্ক ও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায়, যেখানে অংশ নেন আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুতাক্কি এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং জাতিসংঘের বিশেষ দূত রোজা ওটুনবায়েভা।
গত কয়েক মাস ধরে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে গোলাগুলি ও হামলার ঘটনা বেড়ে গেছে। পাকিস্তান অভিযোগ করেছে, আফগান সীমান্ত অঞ্চল থেকে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) জঙ্গিরা তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, আফগান সরকার বলছে, পাকিস্তানি সেনারা সীমান্ত অতিক্রম করে হামলা চালাচ্ছে, যা সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।
এই প্রেক্ষাপটে ইস্তাম্বুল বৈঠকটি ছিল উভয় পক্ষের জন্য “শেষ সুযোগের সংলাপ” বলে মনে করা হচ্ছে।
বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করবে এবং দুই দেশের সীমান্তে যৌথ পর্যবেক্ষণ ও তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা চালু করা হবে।
এছাড়া,সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ চ্যানেল খোলা হবে,টিটিপি ও অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান চালানো হবে,বাণিজ্য ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে ঐক্যমত্য হয়।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন,
“এই বৈঠক কেবল দুই দেশের মধ্যে শান্তির সূচনা নয়, বরং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
জাতিসংঘের বিশেষ দূত রোজা ওটুনবায়েভা এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন,
“আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে এই সহযোগিতা আঞ্চলিক শান্তি ও মানবিক পরিস্থিতি উন্নয়নে নতুন আশা জাগাচ্ছে।”
২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ক্রমে জটিল হয়ে উঠছে। একদিকে বাণিজ্য ও সীমান্ত বাণিজ্যে সহযোগিতা থাকলেও, অপরদিকে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে দ্বন্দ্ব তীব্র হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উভয় দেশের সীমান্তে একাধিক প্রাণঘাতী সংঘর্ষ ঘটে, যেখানে দুই পক্ষের সৈন্য ও সাধারণ নাগরিক হতাহত হন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইস্তাম্বুল বৈঠক দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রক্রিয়ার নতুন দিগন্ত খুলতে পারে। তবে তারা সতর্ক করে বলছেন, এই চুক্তি টিকিয়ে রাখতে উভয় পক্ষের বাস্তব পদক্ষেপ ও আস্থা পুনর্গঠন প্রয়োজন।
সূত্র: আল জাজিরা