মেলবোর্ন, ২৭ অক্টোবর- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও প্রমাণ করলেন-তিনি শুধু রাজনীতিতেই নয়, আচরণেও চমক দিতে জানেন। শনিবার রাতে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার পরই তিনি অংশ নেন এক ব্যতিক্রমী স্বাগত অনুষ্ঠানে। তবে সবচেয়ে আলোচনার জন্ম দেন যখন তিনি নিজেই স্থানীয় নৃত্যশিল্পীদের সঙ্গে নাচতে শুরু করেন।
এশিয়া সফরের প্রথম গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়ায় পৌঁছান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা। এরপর শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা যেখানে মালয়, চীনা, ভারতীয় ও বোর্নিও অঞ্চলের শিল্পীরা একসঙ্গে নাচে অংশ নেন।
সেই নাচ চলাকালীন ট্রাম্প হঠাৎই হাসিমুখে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান। হাতে হাত মেলান শিল্পীদের সঙ্গে, তারপর নিজেই তাল মিলিয়ে হাত নাড়েন ও পদক্ষেপ ফেলেন। মুহূর্তেই উপস্থিত সাংবাদিক, কর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষ করতালিতে ফেটে পড়েন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের এই নাচের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে ‘#TrumpDanceInMalaysia’ হ্যাশট্যাগে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন,“ট্রাম্প রাজনীতির পাশাপাশি বিনোদনেরও মাস্টার!”
এই সফরটি ট্রাম্পের পাঁচ দিনের এশিয়া সফরসূচির অংশ।
তিনি মালয়েশিয়ার পাশাপাশি সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন সফর করবেন। সফরের মূল উদ্দেশ্য-আসিয়ান (ASEAN) সম্মেলনে অংশগ্রহণ,দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা,এবং চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় কৌশলগত আলোচনা করা।
মালয়েশিয়ায় তাঁর অবস্থানকালে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়েও বৈঠক হবে বলে জানা গেছে।
নাচের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প হাসিমুখে বলেন,
“মালয়েশিয়ার মানুষ অসাধারণ! তারা উষ্ণ অভ্যর্থনা দিয়েছে। আমি ভালোবাসি এই দেশের সংস্কৃতি ও শক্তি।”
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করতে এবং “পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্ব” বজায় রাখতে।
ট্রাম্পের নাচের ভিডিও প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।
এক্স (Twitter)-এ লাখো লাইক ও শেয়ার পড়েছে,ইউটিউবে ভিডিওটি মাত্র ১২ ঘণ্টায় ১ কোটি ভিউ ছাড়িয়ে গেছে,আর ইনস্টাগ্রাম-এ মালয়েশিয়ান শিল্পীরা ট্রাম্পের সঙ্গে তোলা সেলফি পোস্ট করে লিখেছেন, “অবিশ্বাস্য মুহূর্ত!”
যদিও কেউ কেউ বলছেন এটি “রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ,” তবু অনেকেই মনে করছেন, এই ঘটনাটি ট্রাম্পের “মানবিক ও প্রাণবন্ত দিক” তুলে ধরেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই সফর শুধু কূটনৈতিক নয়-এটি এক ধরনের ইমেজ বিল্ডিং প্রচারণাও।
তার আগের প্রশাসনে যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়া নীতি কিছুটা কঠোর ছিল। এবার তিনি “বন্ধুত্বপূর্ণ ও সংস্কৃতিসচেতন” মার্কিন নেতার ছাপ ফেলতে চাইছেন।
তবে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন,“নাচ আর হাসির আড়ালে কি মূল রাজনৈতিক বার্তাগুলো ঢাকা পড়ে যাবে না?”
মালয়েশিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ‘নাচে ভরা অভ্যর্থনা’ কেবল আনন্দেরই নয়, কূটনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
যে দেশ একসময় মার্কিন নীতির সমালোচক ছিল, সেখানে এমন উষ্ণতা যুক্তরাষ্ট্র-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
নাচের মঞ্চ থেকে শুরু হলেও, ট্রাম্পের এই সফর শেষ পর্যন্ত কতটা ফলপ্রসূ হয়-তা জানার অপেক্ষায় রয়েছে গোটা বিশ্ব।