মেলবোর্ন, ২৭ অক্টোবর- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট আসিয়ান (ASEAN)-এর নতুন সদস্যপদ পেল এশিয়ার নবীনতম স্বাধীন দেশ ইস্ট তিমুর (East Timor বা তিমোর-লেস্তে)। এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সব দেশই এখন আসিয়ান সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হলো।
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ৪৭তম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে রবিবার (২৬ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্ট তিমুরকে সংগঠনের ১১তম সদস্য দেশ হিসেবে স্বাগত জানানো হয়।
ইস্ট তিমুরের প্রধানমন্ত্রী জানানা গুসমাও (Xanana Gusmão) এক আবেগঘন ভাষণে বলেন,
“এটি আমাদের জাতির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ অপেক্ষা ও সংগ্রামের পর আজ আমরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিবারে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থান পেলাম।”
ইস্ট তিমুর ইন্দোনেশিয়া থেকে ২০০২ সালে স্বাধীনতা লাভ করে- যা একবিংশ শতাব্দীর প্রথম নতুন স্বাধীন রাষ্ট্র। দেশটি ২০১১ সালে আসিয়ানে যোগদানের জন্য আবেদন করে এবং ২০২২ সালে পর্যবেক্ষক সদস্যপদ (Observer status) পায়। অবশেষে চার বছর পর পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ পেল তারা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসিয়ানে যোগদানের মাধ্যমে ইস্ট তিমুর এখন ৬৮০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে।এটি দেশটির বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন সুযোগ তৈরি করবে।আসিয়ানভুক্ত অন্যান্য দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।
আসিয়ান সদস্যরা আশা করছে, ইস্ট তিমুরের অন্তর্ভুক্তি সংগঠনটিকে আরও “সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে প্রতিনিধিত্বকারী” একটি জোট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ইস্ট তিমুরের জন্য সামনে পথ সহজ নয়।দেশটির অর্থনীতি এখনো খুব ছোট; জিডিপি মাত্র ২ বিলিয়ন ডলারের সামান্য উপরে।প্রশাসনিক কাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বড় ঘাটতি রয়েছে।তেল ও গ্যাসনির্ভর অর্থনীতি থেকে বৈচিত্র্য আনাও বড় চ্যালেঞ্জ।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা ও আসিয়ানের যৌথ সহযোগিতার মাধ্যমে দেশটি উন্নয়নের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী গুসমাও।
ইস্ট তিমুরের আসিয়ান সদস্যপদ অর্জন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক। দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে এই পদক্ষেপ দেশটির জন্য যেমন গৌরবের, তেমনি পুরো অঞ্চলের জন্য এটি আঞ্চলিক সংহতির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স