মেলবোর্ন, ২৭ অক্টোবর- দীর্ঘ আলোচনা ও আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনায় প্রাথমিক ঐকমত্যে পৌঁছানো হয়েছে। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে নবম দফা বৈঠকে উভয় দেশের প্রতিনিধিদল একে অপরের সঙ্গে “ফ্রেমওয়ার্ক” নিয়ে সম্মত হয়েছে। আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ড্যানিয়েল গ্রিয়ার এবং স্কট বেসেন্ট, আর চীনের দিক থেকে ছিলেন লি চেংগাং।
উভয় পক্ষের মতে, আলোচনার ফলাফল ইতিবাচক এবং এটি ভবিষ্যতে চূড়ান্ত চুক্তির ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে শুল্ক হ্রাস, কৃষিজাত পণ্যের বাণিজ্য, বিরল খনিজ ও প্রযুক্তি রপ্তানি, এবং মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ। চীনের আলোচক লি চেংগাং বলেছেন, প্রাথমিক ঐকমত্য অর্জন করা হয়েছে এবং এটি উভয় দেশের জন্য লাভজনক হবে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, আলোচনার ফলাফল জনগণের জন্য আশাব্যঞ্জক এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর পরবর্তী বৈঠকে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এটি কাঠামোগত চুক্তির সূচনা মাত্র এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর ও প্রতিরক্ষা-সম্পর্কিত কিছু সংবেদনশীল বিষয় এখনও আলোচনা বাকি।
২০১৮ সালে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। শুল্ক আরোপ, সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে যাওয়া এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। এই প্রাথমিক ঐকমত্য বিশ্ব বাজারে স্থিতিশীলতার আশার আলো সৃষ্টি করতে পারে এবং উভয় দেশের কৃষক, শিল্প ও প্রযুক্তি খাতের জন্য নতুন সুযোগ খুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, প্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানি নীতিতে পার্থক্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিকভাবে দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস কাটানোও সহজ নয়। তাই চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর এবং তা বাস্তবায়ন পর্যন্ত অপেক্ষা করাই হবে বাস্তবসম্মত।
এই প্রাথমিক ঐকমত্য বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি আশার আলো হলেও, স্থায়ী সমাধান ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে উভয় দেশকে আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।
সূত্র: রয়টার্স