রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা
রাষ্ট্র-মালিকানাধীন দেশের ছয়টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে। গত ৩০…
মেলবোর্ন, ২৮ অক্টোবর-আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় প্রায় প্রতি টনে ৯ হাজার টাকা বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি করছে বাংলাদেশ। রাশিয়ান গমের দাম তুলনামূলকভাবে কম হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি রক্ষা করতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা রোববার জানান, বর্তমানে মার্কিন ও রাশিয়ান গমের দামের পার্থক্য প্রতি টনে ৭৫ থেকে ৮০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ হাজার টাকা। সরকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম কিনছে প্রতি টন ৩০৮ ডলার দরে, যেখানে রাশিয়ান গমের বাজারদর ২২৬ থেকে ২৩০ ডলার।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা ৫৭ হাজার টন গমের প্রথম চালান শনিবার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। এটি মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার টন গম আমদানির চুক্তির অংশ, যা চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশের খাদ্য অধিদপ্তর ও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি দপ্তর (USDA)-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত এক সমঝোতা স্মারকের (MoU) আওতায় সম্পন্ন হচ্ছে।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক শক্তিশালী রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন,
“বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ৮ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি বাজার রক্ষা করা, যা বছর শেষে ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।”
তিনি আরও বলেন,
“যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বড় বাণিজ্য অংশীদার, রাশিয়া তা নয়। তাই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কিছু বাণিজ্যিক সুবিধা দেওয়া যৌক্তিক।”
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্কহার ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে আনার পর বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়। এতে বাংলাদেশের জন্য মার্কিন বাজার আরও উন্মুক্ত হয়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গমে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি এবং মান রাশিয়ান গমের তুলনায় উন্নত। রাশিয়ান গমে আর্দ্রতা ও পোকামাকড়ের কারণে ১২ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি হয়, ফলে কার্যকর গমের পরিমাণ কমে যায়।
বাণিজ্য সচিব বলেন,
“রাশিয়া ও ইউক্রেনকে নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে ধরা যায় না। যুদ্ধের কারণে যেকোনো সময় জাহাজ আটকে যেতে পারে বা ডুবির ঝুঁকি থাকে।”
সরকার জানিয়েছে, বেসরকারি খাত চাইলে রাশিয়া থেকে কম দামে গম আমদানি করতে পারবে। তবে সরকারি পর্যায়ের এই উদ্যোগ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব জোরদারের অংশ।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, গম ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং বিমান, এলএনজি, তুলা ও সয়াবিনসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য আমদানি বাড়ানো হচ্ছে। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতির ফলে একদিকে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান মজবুত হবে, অন্যদিকে স্বল্পমেয়াদে কিছু অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au