মেলবোর্ন, ৩১ অক্টোবর- ক্যারিবিয়ান উপদ্বীপের বেশ কয়েকটি দেশে তীব্র ধ্বংসযজ্ঞের ফলে হারিকেন মেলিসার প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪,হাইতিতে ২৫ এবং জামাইকায় ১৯ জন নিশ্চিত নিহত হিসেবে রিপোর্ট করা হয়েছে। জাতীয় ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থাগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
হারিকেন মেলিসা জামাইকায় ভেঙে পড়ার মুহূর্তে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থায় ছিল; স্থানীয় সূত্রে বলা হয় ঝড়টি ভূপৃষ্ঠে ঘূর্ণায়মান অবস্থায় প্রবেশ করলে প্রচণ্ড বাতাস ও তীব্র বর্ষণের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক ছাই-ধ্বংস এবং বৈদ্যুতিক সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কংক্রিট ও টিনের ছাদের উড়ে যাওয়া, সড়ক-সেতু বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং বহু স্থানে বন্যার কারণে উদ্ধার কার্যক্রম কঠিন হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তারা ও উদ্ধারদল তড়িৎভাবে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
হাইতির পেটিট-গোভে এলাকা একমাত্র তীব্র বন্যায় বিধ্বস্ত হয়, যেখানে একটি নদী ভেঙে বাড়ি তলিয়ে যায় এবং অল্পবয়সী শিশুসহ অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে বহু মানুষ ক্ষতবিক্ষত ও নিখোঁজ এবং ডেঙ্গু-তলায়া ও খাদ্য, পানীয় পানির তৎকালীন সংকট প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে; অপারেশনগুলোতে আন্তর্জাতিক ত্রাণসংগঠনগুলোর সহায়তা জরুরি বলে তারা বলছেন।
মেলিসা যখন উত্তরে সরে যাচ্ছে তখন আবহাওয়া সংস্থাগুলি এটিকে বারমুডা দিকে অগ্রসরমান অবস্থায় পর্যবেক্ষণ করছে; ঝড় সামান্য বেশী দুর্বল হয়ে হলেও এখনও সমুদ্র-স্নায়বিক ঢেউ, স্থানীয় তুফানি ঝঞ্ঝা ও ভারী বর্ষণের ঝুঁকি রয়ে গেছে। ন্যাশনাল হ্যারিকেন সেন্টারের ফরকাস্টে বলা হয়েছে যে পরবর্তী ২৪–৭২ ঘন্টার মধ্যে ঝড়ের গতিপথ পরিবর্তিত হতে পারে এবং উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
আর্বিক ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক মূল্যায়নগুলো ইতোমধ্যেই বড় রকমের; বিশেষ করে কৃষি, আবাসিক অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎ-জল সরবরাহে ব্যাপক ক্ষতি ধরা পড়েছে। জামাইকায় কয়েক লাখ নাগরিক অস্থায়ীভাবে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় পড়া এবং হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়ে স্থানান্তরিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন কাজে এখতিয়ারভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন হবে বলে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন।
সরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকর্মীরা যুদ্ধকালীন প্রস্তুতির মতো পরিবেশে সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ, মেডিক্যাল সাপোর্ট এবং ত্রাণ বিতরণে লাগিয়ে দিয়েছেন; হারিকেন উপদ্বীপের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুততর ত্রাণ পৌঁছে দিতে বিমান ও সমুদ্রপথ ব্যবহার করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোও প্রাথমিক ত্রাণকাজে সক্রিয় হয়েছে, তবে বহু সম্প্রদায় এখনও অসংলগ্ন যোগাযোগ ও রাস্তা-বাধার কারণে সহায়তা পেতে দেরি ভোগ করছে।
হারিকেন মেলিসা ক্যারিবিয়ানের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ত্রাস সৃষ্টি করেছে; নিশ্চিত নিহত সংখ্যা বাড়ছে এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে উদ্ধার ও পুনরুদ্ধারের কাজ এখন অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত সহায়তা নিয়ে এগোতে হবে যাতে বেঁচে থাকা মানুষদের তাত্ক্ষণিক relief এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন নিশ্চিত করা যায়।
সুত্রঃ রয়টার্স