মেলবোর্ন,১ নভেম্বর- তুরস্ক আগামী সোমবার ইস্তানবুলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠক আহ্বান করেছে, যেখানে আলোচ্য বিষয় হবে গাজায় অস্ত্রপাতবিরতি ও যুক্তরাষ্ট্রের গঠিত শান্তি পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, ওই বৈঠকে মধ্যস্থতাকারী ভূমিকায় তুরস্ককে আরও সক্রিয়ভাবে অগ্রসর করানোর বিষয়টি এবং কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থার কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে।
বৈঠকে আমন্ত্রণপত্র পেয়েছে এমন দেশগুলোর মধ্যে আছেন কাতার, সৌদি আরব, ইজিপ্ট, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া, যাদের অনেকেই গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে তুরস্কের আলোচনার লক্ষ্য হচ্ছে ঐক্যমতে পৌঁছে গাজায় স্থায়িত্ব ফেরানো ও তাত্ক্ষণিক মানবিক সহায়তার প্রবাহ নিশ্চিত করা।
তুরস্ক এ প্রক্রিয়ায় কর্তব্যজ্ঞান থেকে “টাস্ক ফোর্স” বা পরিবেশনা-নিরীক্ষণ দলের ভূমিকাও নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে , বিশেষ করে গাজায় স্থায়ী নজরদারি, নিরাপত্তা করিডোর এবং শান্তির বাস্তবায়নে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কার্যকর কৌশল নিয়ে। তবে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছু প্রতিনিধিরা তুর্কি নিরাপত্তা যোনার ভূমিকার বিরোধিতা জানিয়েছে, যা কার্যকর বাস্তবায়নের পথে কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শর্ম এল শাখ শীর্ষ সম্মেলন এবং পরবর্তী বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগের পর এটি তুরস্ককে পুনরায় গঠিত শান্তি প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড় করাচ্ছে , তবু বাস্তবে শান্তি বজায় রাখতে হলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে স্থায়ী আস্থা ও নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ২০-পয়েন্টের শান্তি পরিকল্পনার কিছু ধারা নিয়ে শঙ্কা ও আপত্তিও রয়েছে; তাই মুসলিম দেশগুলোর পক্ষ থেকে একক অবস্থান গড়ে তোলা ও নীরিক্ষা-উপায় নির্ধারণই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।
আসন্ন বৈঠকের প্রস্তাবিত এজেন্ডা অনুযায়ী আলোচনা হবে – (১) অস্ত্রপাতবিরতি বজায় রাখার পথ, (২) গাজার জন্য নিরাপত্তা-নিরীক্ষণ ও স্থায়ী মনিটরিং মেকানিজম, (৩) মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবাহ নিশ্চিতকরণ, এবং (৪) চূড়ান্ত রাজনৈতিক সমাধানের দিকে অংশগ্রহণকারীদের সমন্বয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো বৈঠকটিকে স্বাগত জানিয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে ইস্তানবুল রাউন্ডে যে সুসংগঠিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা শীঘ্রই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রূপ নেবে।
তুরস্কে মুসলিম দেশের বৈঠকটি গাজা যুদ্ধবিরতি ও ট্রানজিশন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর কেন্দ্রীভূত হবে , কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা উপকেন্দ্র হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে নতুন ধারা সৃষ্টি করতে পারে; অন্যদিকে অংশীদারিত্বে ফাঁক ও ভিন্নমত থাকলে বাস্তবায়নেই জটিলতা দেখা দেবে