মেলবোর্ন, ১ নভেম্বর- আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ফের উত্তেজনা ছড়াল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পারমাণবিক হুমকি ঘিরে। সম্প্রতি এক জনসভায় ট্রাম্প বলেছেন, “যদি অন্য দেশগুলো পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়, তাহলে আমরাও বসে থাকব না-আমেরিকাও তা করবে।” তার এই মন্তব্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বজুড়ে, বিশেষত নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পুনর্গঠন করাই তাঁর অগ্রাধিকার, এবং অন্য দেশগুলো (বিশেষ করে রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়া) পারমাণবিক অস্ত্রের উন্নয়ন ও পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকেও “সমমানের জবাব” দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য ‘কৌশলগত প্রতিরোধনীতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত’ বহন করে, যা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক পরীক্ষা স্থগিত রাখার নীতি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিতে পারে। ১৯৯২ সালের পর যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক বিস্ফোরণ পরীক্ষা চালায়নি, যদিও ল্যাবভিত্তিক সিমুলেশন পরীক্ষা অব্যাহত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘ ও পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য বিশ্বজুড়ে অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। জাতিসংঘের এক মুখপাত্র বলেন, “পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধ রাখার বৈশ্বিক ঐকমত্যে আঘাত লাগলে তা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।”
রাশিয়া ও চীন এখনো বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে উভয় দেশই সম্প্রতি পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের মন্তব্যকে অনেক কূটনীতিক দেখছেন এক ধরনের রাজনৈতিক বার্তা, যা মার্কিন নির্বাচনের আগাম প্রচারে “শক্তিশালী নেতৃত্ব” প্রদর্শনের কৌশল হিসেবেও ব্যবহার হতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন হোয়াইট হাউস থেকে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের পারমাণবিক নীতিতে এখনো কোনো পরিবর্তন আসেনি, এবং তারা এখনো বিশ্বব্যাপী পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিগুলোর প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।
ট্রাম্পের এমন মন্তব্য শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়-এটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে, বিশেষ করে যখন বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, ইউক্রেন যুদ্ধ ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিযোগিতা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।
সুত্রঃ রয়টার্স