তানজানিয়ার দার এস সালামে সহিংস বিক্ষোভ চলাকালে দাঙ্গা পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১ নভেম্বর- তানজানিয়ায় সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের পর দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংস বিক্ষোভে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিরোধী দলগুলো। তারা দাবি করছে, নির্বাচনে কারচুপি ও ফলাফল জালিয়াতির প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামলে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালিয়ে নির্মমভাবে দমন করে। এ ঘটনায় শত শত মানুষ আহত ও আটক হয়েছে বলেও তারা জানায়।
বিরোধী জোটের নেতারা বলছেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের ইশারায় ফলাফল পরিবর্তন করেছে। ভোটকেন্দ্রে পর্যবেক্ষকদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি, অনেক জায়গায় আগেই ব্যালট বাক্স ভর্তি করা হয়েছিল। তারা জানান, গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার পথে এই সহিংসতা তানজানিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অন্ধ অধ্যায় রচনা করেছে।
সরকার অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সরকারি মুখপাত্রের দাবি, ভোট ছিল “মুক্ত ও সুষ্ঠু” এবং সহিংসতার পেছনে বিরোধীদের উসকানি রয়েছে। তবে স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের প্রমাণ পাওয়া গেছে, এবং অনেক এলাকায় গণগ্রেপ্তার ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয় বলেছে, “তানজানিয়ার নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশ ও সমাবেশের অধিকার আছে। এসব অধিকার দমনে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার উদ্বেগজনক।”
আফ্রিকান ইউনিয়ন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও তানজানিয়ার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তারা বলেছে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় সংলাপ ও রাজনৈতিক সহনশীলতার বিকল্প নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সহিংসতা দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। যদি দ্রুত তদন্ত ও বিচার না হয়, তাহলে তানজানিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স