মেলবোর্ন, ১ নভেম্বর- বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ-স্বাধীনতার মানদণ্ডে ভারতীয় পাসপোর্টের অবস্থান ক্রমেই নিচে নামছে। সাম্প্রতিক হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স ২০২৫ অনুসারে, ভারতীয় পাসপোর্টের অবস্থান ৮৫তম, যেখানে গত বছর ছিল প্রায় ৮০তম স্থানে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই অবনতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ এটি শুধু ভ্রমণের সুবিধা নয়, বরং একটি দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও বৈশ্বিক প্রভাবের প্রতিফলনও।
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতীয় পাসপোর্টধারীরা ৫৭টি দেশ বা অঞ্চলে ভিসা ছাড়াই বা আগমনের সময় ভিসা পেয়ে ভ্রমণ করতে পারেন। অন্যদিকে, শীর্ষে থাকা দেশগুলো – যেমন সিঙ্গাপুর, জাপান ও ফ্রান্স – তাদের নাগরিকদের ১৯০টিরও বেশি দেশে বিনা ভিসায় ভ্রমণের সুযোগ দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের পাসপোর্ট র্যাংকিং নিচে নেমে যাওয়ার পেছনে রয়েছে তিনটি প্রধান কারণ।
প্রথমত, ভারত এখনো বহু দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ভিসা-মুক্ত চুক্তি বাড়াতে পারেনি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপের অনেক দেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, কিন্তু ভারত কূটনৈতিকভাবে ততটা সক্রিয় নয়।
দ্বিতীয়ত, অনেক দেশ ভারতীয় ভ্রমণকারীদের জন্য নিরাপত্তা ও অভিবাসন ঝুঁকি দেখিয়ে কঠোর ভিসা নীতি বজায় রেখেছে। এতে সাধারণ নাগরিকদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
তৃতীয়ত, ভারতের নিজস্ব ই-ভিসা সুবিধা বা অনলাইন অনুমোদন প্রক্রিয়া অনেক দেশে সীমিত, ফলে পারস্পরিক সুবিধা তৈরির সুযোগ কমে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের Nomad Capitalist Passport Index-এ র্যাংক আরও নিচে, প্রায় ১৪৮তম স্থানে, যেখানে করনীতি, নাগরিক স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকেও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
তবে ইতিবাচক দিকও আছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কিছু দেশের সঙ্গে নতুন ভিসা অন অ্যারাইভাল ও ই-ভিসা চুক্তি করছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব উদ্যোগ বজায় থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারতের পাসপোর্টের মান কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
তবে সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, ভারতের পাসপোর্টের র্যাংকিংয়ে এই অবনতি কেবল পরিসংখ্যান নয়,এটি এক প্রকার কূটনৈতিক সংকেত, যা জানায় ভারতের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ভ্রমণ-সহযোগিতা নীতিতে আরও গতিশীলতা আনা জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত যদি বৈশ্বিক মঞ্চে “উদীয়মান শক্তি” হিসেবে নিজের অবস্থান মজবুত করতে চায়, তাহলে শুধু অর্থনীতি বা প্রতিরক্ষা নয়, নাগরিকদের আন্তর্জাতিক গতিশীলতা ও ভ্রমণ স্বাধীনতাও বাড়াতে হবে।
সুত্রঃ বিবিসি