বিশ্ব

দেড় দশকে যুক্তরাজ্যে ছুরি হামলার ভয়াবহ চিত্র

  • 2:41 pm - November 02, 2025
  • পঠিত হয়েছে:২৬ বার
প্রতিকী ছবি

মেলবোর্ন, ২ নভেম্বর- যুক্তরাজ্যে গত দেড় দশকে ছুরি হামলার ঘটনা ব্যাপকমাত্রায় বেড়েছে। যা এখন দেশটির অন্যতম বড় সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ছুরি হামলা সংক্রান্ত অপরাধ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

ছুরি সংক্রান্ত অপরাধের সরকারি পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যুক্তরাজ্যের নগরজীবনের এক ভয়াবহ চিত্র।
শুধুমাত্র গত বছরই যুক্তরাজ্যে ৫০ হাজারেরও বেশি ছুরি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা ২০১১ সালের তুলনায় প্রায় ৮৭ শতাংশ বেশি।

সবচেয়ে বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে লন্ডন, বার্মিংহাম, ম্যানচেস্টার ও লিভারপুলে। বিশেষ করে রাজধানী লন্ডনে ছুরি হামলার হার এতটাই বেড়েছে যে, স্থানীয় পুলিশ একে ‘জননিরাপত্তার জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ইস্যু’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, আক্রান্ত ও হামলাকারী উভয়ের মধ্যেই তরুণদের উপস্থিতি বেশি। নিহতদের একটি বড় অংশের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, এবং স্কুল ও কলেজপড়ুয়া কিশোরদের মধ্যেও ছুরি বহনের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

অধিকাংশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে গ্যাং সহিংসতা, মাদক চোরাচালান, সামাজিক বৈষম্য ও দারিদ্র্য।
ব্রিটিশ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অপরাধ দমন করতে বর্তমানে নিয়মিতভাবে ‘স্টপ অ্যান্ড সার্চ’ অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এই অভিযান নিয়ে বিতর্কও আছে,অনেকে বলছেন, এটি কিছু জাতিগত গোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ সৃষ্টি করছে।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকার ছুরি বিক্রি ও অনলাইন ক্রয় নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়ন করছে। বিশেষ করে ১৮ বছরের কম বয়সীদের কাছে ছুরি বিক্রি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি, স্কুল পর্যায়ে অপরাধ প্রতিরোধ ও সচেতনতা কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যাতে তরুণদের সহিংসতার পথ থেকে দূরে রাখা যায়।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, সমাজে ক্রমবর্ধমান চাপ, বেকারত্ব, পারিবারিক ভাঙন ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তরুণদের অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা মনে করেন, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ নয়, বরং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বিকল্প পথ তৈরি করাই হবে টেকসই সমাধান

আলাদা আরেক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে আগামী দশকে যুক্তরাজ্যে ছুরি-সহিংসতা ‘একটি নিত্যদিনের বাস্তবতা’ হয়ে উঠতে পারে।

২০১১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে ছুরি হামলার ঘটনা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। তরুণদের মধ্যে গ্যাং সংস্কৃতি, সামাজিক বৈষম্য ও বেকারত্ব এই প্রবণতা বাড়াচ্ছে। সরকার আইন কঠোর করলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকট এখন কেবল আইন নয়, বরং সমাজের গভীর কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি রাখে।

সুত্রঃ বিবিসি

এই শাখার আরও খবর

সমীক্ষাকে ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’ বললেন মমতা, ভোটের ফল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল

মেলবোর্ন, ১ মে- পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বুথফেরত সমীক্ষা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যজুড়ে। ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন…

নিজ দেশে নিপীড়নের শঙ্কার কথা জানালে ভিসা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র

মেলবোর্ন, ১ মে- যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রশাসন। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ভিসা…

ইরানে শক্তিশালী হামলার জন্য ট্রাম্পের অনুমতির অপেক্ষায় সেন্টকম

মেলবোর্ন, ৩০ এপ্রিল- ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে দেশটির বিরুদ্ধে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী সামরিক হামলার একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল…

বিবাহবার্ষিকীতে প্রিন্স উইলিয়াম-কেটের পরিবারিক ছবি প্রকাশ, চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে নতুন বার্তার ইঙ্গিত

মেলবোর্ন, ৩০ এপ্রিল- বিবাহের ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ব্রিটিশ রাজপরিবারের বর্তমান ব্রিটিশ সিংহাসনের প্রধান উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়াম এবং প্রিন্সেস অফ ওয়েলস ক্যাথরিন একটি পারিবারিক ছবি…

শেখ হাসিনাকে ঘিরে হত্যাচেষ্টার আশঙ্কা, তুরস্ক-পাকিস্তান সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

মেলবোর্ন, ৩০ এপ্রিল- বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে একটি গোপন বিদেশি ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে…

কিংস কলেজ লন্ডনে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি সুযোগ, আবেদন চলবে ১৭ মে পর্যন্ত

মেলবোর্ন, ৩০ এপ্রিল- যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডন ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে একটি ফুল ফান্ডেড পিএইচডি শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ ঘোষণা করেছে। এই গবেষণা প্রোগ্রামটি ন্যায়বিচার, শাসনব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au