মেলবোর্ন, ২ নভেম্বর- ভয়াবহ হারিকেন মেলিসা জ্যামাইকার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার পর পুরো দ্বীপজুড়ে বিপর্যয় নেমে এসেছে। প্রবল বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়ায় দেশটির কৃষিখাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজার হাজার একর জমির ফসল এক রাতে নষ্ট হয়ে গেছে, আর কৃষকরা এখন দাঁড়িয়ে আছেন নিঃস্ব অবস্থায়।
দ্বীপটির উত্তর ও পূর্বাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে। এই অঞ্চলগুলোই জ্যামাইকার প্রধান কৃষি উৎপাদন কেন্দ্র। কলা, আখ, ভুট্টা, কফি, এবং সবজি, সব ধরনের ফসলই ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে। অনেক এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসে কৃষিজমি চাষের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কৃষকরা জানাচ্ছেন, ঝড়ের সঙ্গে আসা ভারি বৃষ্টিতে শুধু ফসল নয়, গবাদিপশু ও কৃষিযন্ত্রও হারিয়ে গেছে।
জ্যামাইকার কৃষিমন্ত্রী অ্যান্ড্রু স্পেন্স বলেন, “আমরা কয়েক দশকের মধ্যে এমন ভয়াবহ ক্ষতি দেখিনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কৃষিখাতে শত কোটি জ্যামাইকান ডলারের ক্ষতি হয়েছে।” তিনি জানান, সরকার ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব করতে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার জন্য জরুরি তহবিল চালু করা হয়েছে।
এদিকে, দেশের বাজারগুলোতে ইতিমধ্যেই খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। রাজধানী কিংস্টনের বাজারে কলা, টমেটো ও আলুর দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) সতর্ক করে জানিয়েছে, জ্যামাইকার কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হলে ক্যারিবীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হোলনেস বলেছেন, “এই দুর্যোগ শুধু একটি প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়, এটি আমাদের খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থার স্থিতিশীলতারও বড় পরীক্ষা।” তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, যাতে দ্রুত পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অনেক এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়নি। বন্যার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ফলে সাহায্য পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক কৃষক আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন এবং সরকারের কাছ থেকে ত্রাণের অপেক্ষায় আছেন।
যদিও হারিকেন মেলিসা বর্তমানে দুর্বল হয়ে সাধারণ ঝড়ে পরিণত হয়েছে, তবুও এর প্রভাবে এখনও ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এ ধরনের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা ও তীব্রতা আগামী বছরগুলোতে আরও বাড়তে পারে।
সুত্রঃ রয়টার্স