মেলবোর্ন, ২ নভেম্বর- ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডে একটি নতুন গাজা নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে গাজার বর্তমান ভূখণ্ডের বড় অংশকে পুনর্গঠন করে একটি নতুন “নিরাপত্তা অঞ্চল” বা “নতুন গাজা” তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
লিক হওয়া একটি নথিতে দেখা গেছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা অঞ্চল পুনর্গঠনের নামে ইসরায়েল এমন এক পরিকল্পনা করছে, যাতে মূলত সেখানে নতুন অবকাঠামো, বসতি ও শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে। এতে গাজার বর্তমান জনগোষ্ঠীর বড় অংশকে স্থানান্তর করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক বলছেন, এটি কার্যত গাজার ভৌগোলিক ও জনসংখ্যাগত কাঠামো পরিবর্তনের প্রচেষ্টা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এই পরিকল্পনার বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য না দিলেও, ওয়াশিংটনের আচরণে এক ধরনের নীরব সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ওয়াশিংটন গাজা পুনর্গঠন ও যুদ্ধপরবর্তী স্থিতিশীলতার বিষয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। যদিও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই পরিকল্পনাকে “আধুনিক উপনিবেশিক নীতি” বলে সমালোচনা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান ও ল্য মোঁদে–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গোপন এই পরিকল্পনা “গাজা রিভিয়েরা প্রজেক্ট” নামে পরিচিত। এটি বাস্তবায়িত হলে গাজার উপকূলীয় অংশে পর্যটন, আবাসন ও শিল্পায়নের একটি নতুন নগরায়ণ প্রকল্প গড়ে উঠবে, যা সম্পূর্ণভাবে ইসরায়েলি নিরাপত্তা ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এটি মূলত গাজাবাসীদের স্থায়ীভাবে স্থানচ্যুত করার একটি পরিকল্পনা।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ও জাতিসংঘ ইতিমধ্যে এই উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, “নতুন গাজা” প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দুই রাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তি দুর্বল হবে এবং ইসরায়েল–ফিলিস্তিন সংকট আরও গভীর হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ওয়াশিংটনের এই নীরবতা ইসরায়েলের প্রতি একধরনের পরোক্ষ অনুমোদনই প্রকাশ করছে।
সুত্রঃ রয়টার্স