মেলবোর্ন, ৩ নভেম্বর- যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড। বাহরাইনে অনুষ্ঠিত বার্ষিক নিরাপত্তা সম্মেলন ‘মানামা সংলাপে’ তিনি ঘোষণা দেন যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের বহু দশকের ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের নীতি এখন অতীত।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সিকিউরিটি স্টাডিজ (IISS) আয়োজিত এই সম্মেলনে গ্যাবার্ড বলেন, “দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র এমন এক পররাষ্ট্রনীতিতে আটকে ছিল যেখানে অন্য দেশের সরকার উৎখাত, নতুন শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া এবং সংঘাতে হস্তক্ষেপ করার প্রবণতা দেখা গেছে। কিন্তু এই নীতি ব্যর্থ হয়েছে,এতে মিত্রের চেয়ে বেশি শত্রু তৈরি হয়েছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই দীর্ঘমেয়াদি হস্তক্ষেপমূলক নীতির ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা নতুন নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করেছে। গ্যাবার্ড বলেন, “এই নীতির ফলেই আইএসআইএসের মতো উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর উত্থান ঘটেছে। এতে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে এবং অগণিত জীবন ঝরে গেছে।”
গ্যাবার্ডের এই মন্তব্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সফরে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায়। ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন লক্ষ্য হলো “অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা”, যা পূর্বের “গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রচারের” নীতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
তিনি আরও বলেন, “ওয়াশিংটনের পুরোনো চিন্তাপদ্ধতি আমাদের পিছিয়ে দিচ্ছিল। ট্রাম্প প্রশাসন সেই নীতির অবসান ঘটিয়ে বাস্তববাদী পথ বেছে নিয়েছে।”
তুলসী গ্যাবার্ডের এই অবস্থান ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ সম্পর্কেও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের চুক্তি হয়েছিল, যা ২০২১ সালে বাইডেন প্রশাসনের সময়ে বাস্তবায়িত হয়।
যদিও গ্যাবার্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ আমেরিকায় সামরিক অভিযান বা ভেনেজুয়েলায় গোপন অভিযান নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি, তবে তিনি স্বীকার করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি এখনো কঠিন পরীক্ষার মুখে রয়েছে।
গ্যাবার্ড বলেন, “গাজায় যুদ্ধবিরতি এখনো ভঙ্গুর, ইরান আবারও পারমাণবিক স্থাপনায় সক্রিয় হচ্ছে। সামনে পথ সহজ নয়, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শান্তি ও স্থিতিশীলতার এই পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলেছেন।”
সুত্রঃ এপি