ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় বাসের ভেতরে প্রাণ হারানো চালক জুলহাস উদ্দিনের মৃত্যুতে বিলাপ করছিলেন তাঁর বোন ময়না আক্তার ও মা সাজেদা আক্তার । গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার কৈয়ারচালা গ্রামে । ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১২ নভেম্বর- রাতের নিস্তব্ধতায় একের পর এক আগুনের ঘটনা সারা দেশে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। রাজধানীসহ কয়েক অঞ্চলে গাড়ি ও বাসে অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে; কিছুভাগই এখনও তদন্তাধীন। পুলিশের বক্তব্য ও স্থানীয় প্রতিবেদনে যে দুটি ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে, সেগুলো নিম্নে সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো , একটিতে ‘চোরাগোপ্তা’ আগুন লাগার অভিযোগ উঠে এসেছে, অন্যটিতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী বাসে দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগে বাসের ভিতরে ঘুমিয়ে থাকা এক চালক পুড়ে মারা গেছেন।
রাজধানীর কিছু এলাকায় ধারাবাহিকভাবে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি গাড়িতে অনুপ্রবেশকারী বা দুর্বৃত্তরা চোরাগোপ্তা আগুন জ্বালিয়ে দেয়; এতে চালক বা যাত্রীদের মধ্যে হতাহতের খবর পাওয়া গেছে তবে ঘটনাস্থল ও ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে পুলিশের চূড়ান্ত বিবরণ এখনও প্রকাশ করেনি। স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য ও সংবাদসংস্থার খবরে উল্লিখিত ঘটনাগুলো নিয়ে রাজধানীজুড়ে সতর্কতা দেখানো হয়েছে এবং ডিএমপির পক্ষ থেকে অভিযান চলমান রয়েছে।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভালুকজান এলাকায় রাত সাড়ে তিনটার দিকে আলম এশিয়া পরিবহনের একটি দাঁড়িয়ে থাকা বাসে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন, কিন্তু বাসের ভিতরে ঘুমিয়ে থাকা একজন পরিচয় জানা যায় চালক জুলহাস নামের এক ব্যক্তির দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভাতে কাজ করে এবং প্রাথমিকভাবে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার উপস্থিতি খতিয়ে দেখছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বাসগুলো রাতে পার্কে দাঁড়ানো অবস্থায় থাকলে চালকরা ভেতরে ঘুমান; এ প্রথার সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
সরকারি ও স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে গাড়ি-বাসে আগুন লাগানোর ও ককটেল বিস্ফোরণের কয়েকটি ঘটনার সারি দেখা গেছে; পুলিশ বলছে এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সড়ক ও জনসমাগম স্থানে অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রেখেছে।
সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সূত্র মনে করাচ্ছে যে রাজনৈতিক কর্মসূচি বা জনসমাগমের আগে কোনো নাশকতামূলক চেষ্টাকে প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে সতর্কতা জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি, তদন্তকারীরা দুর্ঘটনা না-বা-হত্যা কোনটি তা স্পষ্ট করতে দগ্ধ বস্তু, সিসিটিভি ফুটেজ ও স্বাক্ষ্যের ওপর নির্ভর করে ঘটনার প্রকৃতি নির্ধারণ করবেন বলেও জানিয়েছে প্রশাসন।
স্থানীয় মানুষজন ও বাস মালিক-শ্রমিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাতের দিকে যানবাহন পার্ক করা, চালকদের গাড়ির ভেতরে ঘুমানোর যে রীতি আছে, তা এখন নিরাপত্তার বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেউ কেউ বলছেন, রাতের পাহারাদার বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে; অন্যরা আশঙ্কা করছেন যে যদি এই ধরণের অগ্নিকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া হয়, তবে সাধারণ মানুষের চলাফেরা ও পেশাগত জীবনে বড় ধরণের বিঘ্ন ঘটতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।
বর্তমানে তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলীয় আলামত সংগ্রহ, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্তে তৎপর-সার্বিকভাবে একই সময়ে সরবরাহ ও জননিরাপত্তায় যে ধরণের ধাক্কা দেখা দিচ্ছে, তার সঙ্গে মিল রেখে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। নিহত চালকের পরিবারকে সহায়তা ও দ্রুত তদন্তের আশ্বাস জেলা প্রশাসন দিয়েছে; পাশাপাশি নাগরিকদের মতামত নেওয়া হচ্ছে যাতে রাতের যাতায়াত ও যানবাহন পার্কিংয়ের নিরাপত্তা পুনর্ব্যবস্থা করা যায়।
এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জনসাধারণকে অনুরোধ করেছে,যথাসম্ভব রাতের বেলা নিরিবিলি স্থানে গাড়ি পার্ক না করার, অচেনা বা সন্দেহজনক কাউকে দেখে থাকলে আগাম জানানোর এবং যে কোনো সংকট মুহূর্তে ৯৯৯-এ ফোন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তারা আবারও নিশ্চিত করেছেন যে যারা অপরাধী তাদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং ঘটনার স্বচ্ছ, দ্রুত অনুসন্ধান করা হবে।