অস্ট্রেলিয়ার নর্দার্ন টেরিটরির উপকূল পেরিয়ে শক্তিশালী উষ্ণমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় ফিনা ডারউইনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি চালিয়েছে। ছবিঃ স্কাই নিউজ
মেলবোর্ন, ২৩ নভেম্বর- অস্ট্রেলিয়ার নর্দার্ন টেরিটরির উপকূল পেরিয়ে শক্তিশালী উষ্ণমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় ফিনা ডারউইনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি চালিয়েছে। শনিবার রাতে ক্যাটাগরি ৩ শক্তি নিয়ে ডারউইন অতিক্রম করে এটি পশ্চিম ও দক্ষিণপশ্চিম দিকে সমুদ্রে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এটি ক্যাটাগরি ৪ এ রূপ নিয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ফিনা ছিল ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ট্রেসির পর ডারউইনের ওপর দিয়ে যাওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। ২০১৮ সালে ডারউইন অতিক্রম করা ক্যাটাগরি টু ঘূর্ণিঝড় মার্কাসের তুলনায় এটিও বেশি শক্তিশালী।
সকালের আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যে বলা হয়েছে, ফিনার কেন্দ্রের কাছাকাছি স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়া ২০৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছিল।
টিওয়ি দ্বীপপুঞ্জ, কেপ হোথাম থেকে ওয়াডায় পর্যন্ত এলাকায়, যার মধ্যে ডারউইনসহ পিঁরলাঙ্গিম্পি, মিলিকাপিটি, উরুমিয়াঙ্গা ও ওয়াডায়ে রয়েছে, সেখানে ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা জারি ছিল। ওয়াডায়ে থেকে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার ট্রটন আইল্যান্ড পর্যন্ত এলাকাগুলোতে ঘূর্ণিঝড় নজরদারি চলছিল।
ডান্ডি বিচসহ কক্স উপদ্বীপের উপকূলীয় এলাকায় ঘণ্টায় ১৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দপ্তর। ডারউইনের দক্ষিণপশ্চিমে ডেইলি রিভার মাউথ পর্যন্ত এলাকায় দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা আছে। ভারী বৃষ্টি ও হঠাৎ বন্যার ঝুঁকিও রয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, রোববার দুপুরের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে, যদিও রাত ৬টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত শক্তিশালী বাতাস সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে। তবে আজ দুপুরের পর ঘূর্ণিঝড়টি আরও জোরদার হয়ে ক্যাটাগরি ফোরে পরিণত হতে পারে।
ক্ষয়ক্ষতি কী কী হয়েছে
ডারউইন, পামারস্টন, টিওয়ি দ্বীপপুঞ্জ এবং আশপাশের গ্রামীণ এলাকার বহু স্থানে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে রাতভর মেরামত কাজ বন্ধ রাখা হয়।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঝড়ের হাওয়া এক স্থানে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে ফেলেছে এবং স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে ছোট বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটেছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় গাছ উপড়ে পড়েছে।
রাতের মধ্যে রয়্যাল ডারউইন হাসপাতালের প্রথম তলার একটি অংশের ছাদ ধসে পড়ে এবং ভবনের ভেতরে পানি ঢোকার খবর পাওয়া যায়। কেউ আহত হয়নি। শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল অস্ত্রোপচার বিভাগ ও আইসিইউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন এগুলো অক্ষত রয়েছে।
এনটি হেলথ জানিয়েছে, প্রকৌশলীরা ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরীক্ষা করছেন।
জরুরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী ক্রিস্টি ম্যাকবেইন বলেছেন, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় সরকার প্রস্তুত আছে। জরুরি কাজে সহায়তার জন্য অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স ফোর্সকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কমিউনিটি ও স্থানীয় প্রশাসনের জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও থাকবে।
ফেডারেল সরকার নর্দার্ন টেরিটরি সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে পুনরুদ্ধার সহায়তা সমন্বয় করছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ