‘ফিনালিসিমা’ বাতিলের পর কাদের বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা
মেলবোর্ন, ১৮ মার্চ- স্পেনের বিপক্ষে বহুল আলোচিত ‘ফিনালিসিমা’ ম্যাচ বাতিল হওয়ায় বিকল্প পরিকল্পনায় প্রীতি ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল। আসন্ন বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ…
মেলবোর্ন, ২৯ নভেম্বর-ঢাকার সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার অগোছালো বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সরকার নতুন নীতিমালা চূড়ান্তের পথে। খসড়া অনুযায়ী, ই–রিকশা চালানোর অনুমতিপত্র পেতে চালককে বাংলা পড়তে ও লিখতে জানতে হবে এবং ন্যূনতম বয়স হতে হবে ১৮ বছর। একই সঙ্গে এক ব্যক্তি একটির বেশি ই–রিকশা নিবন্ধন করতে পারবেন না।
নীতিমালা বলছে, নির্দিষ্ট ওয়ার্ডের জন্য নিবন্ধিত রিকশা অন্য ওয়ার্ডে প্রবেশ করতে পারবে না। বাস চলাচলের রুটেও ই–রিকশা চলবে না। এসব বিধান যুক্ত করা হয়েছে ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই–রিকশা) চলাচল নীতিমালা–২০২৫’-এর খসড়ায়।
বিএসটিআইকে ই–রিকশার নকশা অনুমোদনের দায়িত্ব দেওয়া হবে। নকশা চূড়ান্ত হওয়ার পর পুরোনো রিকশা বন্ধ করে নতুন নকশার রিকশা চালুর পরিকল্পনা করেছে সরকার। খসড়াটি আইনি পরীক্ষার জন্য লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগে পাঠানো হয়েছিল। কিছু পর্যবেক্ষণ দেওয়ার পর নীতিমালাটি আবার স্থানীয় সরকার বিভাগে ফেরত আসে। বিভাগটির উপসচিব মাহবুবা আইরিন জানিয়েছেন, সব কাজ শেষ করে শিগগির নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে।
নীতিমালা প্রণয়নে গঠিত আট সদস্যের কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম কামরুজ্জামান। তাঁর বদলির পর কাজ কিছুটা ধীর হয়। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আখতার জাহান বলেন, ঢাকা শহরে ই–রিকশার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা পাওয়া না গেলেও ধারণা করা হয় সংখ্যা লাখের ঘরে পৌঁছেছে।
নীতিমালা আটকে থাকার অন্যতম কারণ হচ্ছে বিদ্যমান রিকশা বন্ধ করে যাত্রী সুরক্ষা উপযোগী নতুন নকশার রিকশা চালুর প্রস্তাব। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী জানিয়ে দিয়েছেন, দুর্ঘটনা ঝুঁকি বেশি হওয়ায় পুরোনো রিকশা আর রাখা যাবে না।
খসড়ায় আরও রয়েছে পাঁচ বছর অন্তর ড্রাইভিং পরীক্ষা নেওয়ার কথা। শিল্প মন্ত্রণালয় অনুমোদিত কারখানায় ই–রিকশা প্রস্তুত করতে হবে এবং মোটর, চেসিস, বডি ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম সবই মানসম্মত নকশা অনুযায়ী হবে। প্রতিটি রিকশায় লুকিং গ্লাস বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ঘটছে ই–রিকশার কারণে। গত ঈদে শহরের ৩১৫টি দুর্ঘটনার প্রায় ১৫ শতাংশ এই যানকে ঘিরে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রিকশার গতি ২০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমিত রাখতে কঠোর নকশা নিয়ন্ত্রণ জরুরি, কারণ এখনকার ব্যাটারি রিকশা ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতি তুলতে পারে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মতে, সহজলভ্যতা, কম খরচ এবং তদারকির অভাবে লাখো মানুষ ব্যাটারি রিকশা কিনে রাস্তায় নামছেন, যা নতুন নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়েছে।
গত বছর ১৫ মে তৎকালীন সরকার ব্যাটারি রিকশা বন্ধের ঘোষণা দিলেও আন্দোলনের মুখে তা প্রত্যাহার করা হয়। পরে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার পরেও আপিল বিভাগের স্থিতাবস্থার কারণে রাস্তায় চলতে থাকে ব্যাটারি রিকশা। বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও এগুলো বাস্তবায়ন হয়নি।
নতুন নীতিমালা চূড়ান্ত হলে ঢাকার রাস্তায় চলাচলকারী ই–রিকশার জন্য প্রথমবারের মতো স্পষ্ট কাঠামো ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর হবে।
সুত্রঃ সমকাল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au