বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী , ছবি: জামায়াতের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া
জামায়াতে ইসলামী এর আগে কোনো জাতীয় নির্বাচনে দলের নে
মেলবোর্ন, ৬ ডিসেম্বর- জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে এবার আগের তুলনায় ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজনকে প্রার্থী করা হয়েছে। আরও কয়েকটি আসনে একই ধরনের পরিবর্তনের আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।
এ বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ধাপে ধাপে ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে জামায়াত। গত সপ্তাহে তিনটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে খুলনা–১ আসনে কৃষ্ণ নন্দীর মনোনয়ন। তিনি ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি। আগে ওই আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন বটিয়াঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমির শেখ আবু ইউসুফ।
জামায়াতের নেতৃত্ব বলছে, ২০০৮ সালে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনের পর থেকেই দলটির গঠনতন্ত্রে ভিন্নধর্মাবলম্বীদের প্রার্থী করার সুযোগ তৈরি হয়। এবার তৃণমূলের মতামত, জরিপের ফল এবং জয়ের সম্ভাবনা বিবেচনা করে মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মনে করেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
খুলনা–১ আসনে কৃষ্ণ নন্দীকে বেছে নেওয়ার পেছনে এলাকায় দীর্ঘদিনের তার সক্রিয়তা এবং ওই আসনে অতীতে হিন্দু প্রার্থীদের ধারাবাহিক সাফল্যের বিষয়টিও বিবেচনায় এসেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। ডুমুরিয়ায় জামায়াতের সভা–সমাবেশে গত এক বছরে তাকে নিয়মিত দেখা গেছে। এসব কর্মসূচিতে হিন্দুধর্মাবলম্বী নারী–পুরুষের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
অন্য দুটি পরিবর্তনের একটি হয়েছে হবিগঞ্জ–৪ আসনে। সেখানে জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুখলিছুর রহমানের জায়গায় নতুন প্রার্থী করা হয়েছে সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমানকে, যিনি দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে ছিলেন। লালমনিরহাট–৩ আসনে আগের প্রার্থীর পরিবর্তে চূড়ান্ত করা হয়েছে কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য মো. আবু তাহেরকে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় একজন নেতা জানান, প্রয়োজনের ভিত্তিতে প্রার্থী পরিবর্তন অব্যাহত থাকতে পারে। সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার যুক্তরাজ্য থেকে জানান, সংসদে সকল সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব থাকা জরুরি। তাই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে ইচ্ছুক দলগুলোর মধ্যে ধর্ম–বর্ণভেদে অন্তর্ভুক্তির মানসিকতা থাকা উচিত।
জামায়াতসহ আটটি দল ‘এক আসনে এক প্রার্থী’ নীতি নিয়ে আসন সমঝোতার আলোচনায় রয়েছে। কোন আসনে কোন দলের প্রার্থী বেশি সম্ভাবনাময়, তা বিবেচনায় জরিপ করছে দলগুলো। সপ্তাহের মধ্যেই জরিপ শেষ হতে পারে। এরপর আসন বণ্টন নিয়ে সিদ্ধান্তের দিকে এগোবে দলগুলো।
আগামী ৮ ডিসেম্বর আট দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে আসন সমঝোতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের প্রতিনিধি হামিদুর রহমান আযাদ।
সুত্রঃ প্রথম আলো