চিকিৎসক ধনদেব চন্দ্র বর্মণ কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়ার পর নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৭ ডিসেম্বর- ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিদর্শনে এসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবু জাফরের সঙ্গে তর্কে জড়ানোর পর জরুরি বিভাগের ক্যাজুয়ালটি ইনচার্জ ডা. ধনদেব চন্দ্র বর্মণকে তাঁর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁকে শোকজ নোটিশও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ বলা হয়েছে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন, যা সরকারি চাকরি বিধিমালার পরিপন্থী। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে।
শনিবার বিকেলে হাসপাতাল প্রশাসন এ পদক্ষেপ নেয়। বিকেল ৪টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম ফেরদৌস ধনদেব বর্মণকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মাইনউদ্দিন খান জানান, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে ক্যাজুয়ালটি ইনচার্জের দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ মনে করছে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর আচরণ শৃঙ্খলাভঙ্গের সামিল।
ঘটনার শুরু সেদিন সকালে। স্বাস্থ্যের ডিজি মো. আবু জাফর সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মিলনায়তনে আসেন। সেমিনারের আগে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন। ক্যাজুয়ালটি অপারেশন থিয়েটার পরিদর্শনের সময় তিনি কক্ষের ভেতরে একটি টেবিল থাকার কারণ জানতে চান। তখন ধনদেব বর্মণ উত্তর দিতে গেলে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। উপস্থিত চিকিৎসকদের কয়েকজনও ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন।
ধনদেব বর্মণ দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৩ সালের ৮ আগস্ট তিনি এই দায়িত্ব পান। চলতি বছরের জুলাইয়ে আবাসিক সার্জন থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি হয় তাঁর। কিন্তু তিনি জানান নিজের প্রতি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অবহেলা ছিল। তাঁর বয়সী অনেক সহকর্মী এখন অধ্যাপক হলেও তিনি লেকচারার হিসেবেই বছরের পর বছর কাজ করেছেন।
ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে ধনদেব বর্মণ বলেন, তিনি হাসপাতালের নানা সীমাবদ্ধতার কথা ডিজিকে জানাচ্ছিলেন। তাতে ডিজি নাখোশ হয়ে তাঁর সঙ্গে অপ্রীতিকর আচরণ করেন। তাঁর ভাষায়, রোগী এবং ডাক্তারদের সামনে তাঁকে অপমান করা হয়েছে এবং ডিজি তাঁর পদমর্যাদার ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন।
তিনি আরও বলেন, তাঁকে শোকজের কথা জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি আর চাকরিতে থাকতে চান না এবং দুই এক দিনের মধ্যেই নিজ উদ্যোগে পদত্যাগ করবেন বলে জানান।