করেছে। রোববার ফজরের সময় মসজিদে যাওয়ার পথে মুসল্লিরা কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর ও বাঁশঘেরা জায়গায় আগুন দেখতে পান। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৮ ডিসেম্বর- রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের তারাপুর কবরস্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত অংশে ভোররাতে আগুন দেওয়ার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আর উদ্বেগ তৈরি করেছে। রোববার ফজরের সময় মসজিদে যাওয়ার পথে মুসল্লিরা কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর ও বাঁশঘেরা জায়গায় আগুন দেখতে পান। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হলে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে আগুন নেভান। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, জায়গাজুড়ে কেরোসিনের তীব্র গন্ধ পাওয়া গেছে, যা আগুন লাগানোটি পরিকল্পিত ছিল বলে স্পষ্ট করে।
তারাপুর জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন শহিদুল, যিনি কবরস্থানেরও দেখভাল করেন, জানান যে ফজরের আজান দিতে যাওয়ার সময় তিনি আগুন দেখতে পান। তার দাবি, কবরস্থানে বিদ্যুৎ নেই এবং আশপাশে আগুন লাগার কোনো স্বাভাবিক উৎস নেই, তাই বিষয়টি দুর্ঘটনা হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তিনি এটিকে সরাসরি নাশকতা বলে উল্লেখ করেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং কবরস্থান পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সজীব হোসেন দুপুরে জানান, ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত তিন একরের বেশি জায়গার এই কবরস্থানের প্রায় চার শতাংশ অংশ ২০২২ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়। এখন পর্যন্ত পাঁচজন মুক্তিযোদ্ধাকে সেখানে দাফন করা হয়েছে। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের কবরস্থান লক্ষ্য করে আগুন দেওয়ার চেয়ে নিন্দনীয় কাজ আর হতে পারে না। ঘটনাস্থলে এখনো কেরোসিনের গন্ধ টিকে আছে।
পাংশা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যসচিব নজরুল ইসলাম খান মনে করেন, যারা স্বাধীনতার বিরোধী চিন্তা ধারণ করে তারাই এমন ঘটনা ঘটাতে পারে। তার ভাষায়, বিজয়ের মাসে এই নাশকতা শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অসম্মান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তাদের অস্তিত্বকেও হুমকির মুখে ফেলে। তিনি দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর সকালে পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ইউএনও মো. রিফাতুল হক জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে আগুন সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছে, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়। তিনি বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং পুলিশকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।