এবার ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে আট বছরের পুরোনো মামলায় সমন জারি
ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে আট বছরের পুরোনো একটি ফৌজদারি মানহানির মামলায় নতুন করে সমন জারি করেছেন দিল্লির একটি আদালত। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিল্লির…
মেলবোর্ন, ২১ ডিসেম্বর- ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছায়ানটে ভোররাতে হামলার ঘটনার পরও সংগীত ও নৃত্যের কার্যক্রম বন্ধ না করার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও দুই সপ্তাহের মধ্যে ক্লাস পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ছায়ানট কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার ভোর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে একদল লোক ১৯৬০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। তাণ্ডবে তবলা, হারমোনিয়ামসহ বেশ কয়েকটি বাদ্যযন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সময় রাজধানীতে দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগের রাতে প্রথম আলোর কার্যালয়েও জনতার হামলার খবর পাওয়া যায়।
ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী শনিবার বলেন, হামলার পরও সংগীতচর্চা চালিয়ে যাওয়াই তাদের মূল অঙ্গীকার। “আমাদের লক্ষ্য ক্লাস দ্রুত চালু করা। সবকিছু ঠিক থাকলে দুই সপ্তাহের মধ্যেই গান ও নৃত্যের ক্লাস শুরু করা সম্ভব হবে। বর্তমানে আমাদের প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে,” বলেন তিনি।
তিনি জানান, কয়েকটি কক্ষ মেরামতের পাশাপাশি নতুন বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহের প্রয়োজন হবে। মুক্তিযোদ্ধা সারওয়ার আলী বলেন, সংকট এলেও ছায়ানট নিজের শক্তিতেই ঘুরে দাঁড়াতে চায়।
শুক্রবার সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ছায়ানট পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন। তবে ছায়ানটের সভাপতি বলেন, “আমরা একটি স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠান। প্রয়োজন হলে নিজেরাই ক্ষতি সামলে নিতে পারব।”
ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমেদ লিসা জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। “আর্থিক ক্ষতি কতটা হয়েছে, তা জানতে আমাদের কিছুটা সময় লাগবে,” বলেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পশ্চিমবঙ্গে অবস্থানের কারণে কলকাতার সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও ছায়ানট একটি পরিচিত নাম। সে সময় বাংলার বহু শিল্পী তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন।
হামলার কয়েক ঘণ্টা পর ছায়ানটের সামনে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত ‘সংকোচের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান’ ধ্বনিত হয়। সেই দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং সংস্কৃতিপ্রেমীদের মধ্যে আলোড়ন তোলে।
ছায়ানটের বাইরে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালে ঢাকার তোপখানা রোডে অবস্থিত আরেকটি সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়। এতে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি দুর্লভ পাণ্ডুলিপি, বই ও বাদ্যযন্ত্র পুড়ে যায়।
উদীচীর সহকারী সাধারণ সম্পাদক রহমান মফিজ বলেন, ভবনের প্রথম তলায় অবস্থিত তাদের কার্যালয়ে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার ছিল। একই তলায় পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ ও একটি সরকারি দপ্তর থাকলেও হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে আগুন ধরাতে সক্ষম হয়।
তিনি জানান, ছায়ানটের সামনে কর্মসূচির সময়ই তারা উদীচীর কার্যালয়ে হামলার খবর পান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সেখানে পৌঁছানোর আগেই আগুনে সবকিছু পুড়ে যায়।
রহমান মফিজ বলেন, “এটি কেবল দুটি সংগঠনের ওপর হামলা নয়, বরং উদার ও গণতান্ত্রিক চিন্তার প্রতীকগুলোর ওপর পরিকল্পিত আঘাত। গত বছর কারফিউয়ের মধ্যেও উদীচীর শিল্পীরা রাস্তায় নেমে গান গেয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। সেই সাংস্কৃতিক প্রতিবাদের ধারাকেই লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।”
বাংলাদেশজুড়ে উদীচীর প্রায় ৪৫০টি কেন্দ্র রয়েছে, পাশাপাশি দেশের বাইরেও রয়েছে বেশ কয়েকটি শাখা।
ছায়ানট ও উদীচী দুটিই অতীতে সহিংস হামলার শিকার হয়েছে। ১৯৯৯ সালে যশোরে উদীচীর সংগীত উৎসবে বোমা হামলায় ১০ জন নিহত হন। ২০০১ সালে ঢাকার রমনার বটমূলে ছায়ানটের পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠানে ধারাবাহিক বোমা হামলায়ও প্রাণহানি ঘটে।
সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদে শনিবার উদীচীর কার্যালয় থেকে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে একটি মশাল মিছিল বের করা হয়। মিছিলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, কাজী নজরুল ইসলাম ও মুকুন্দ দাসের গান গেয়ে সংস্কৃতি ও গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান জানান অংশগ্রহণকারীরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au