মেলবোর্ন, ২৭ ডিসেম্বর- তাইওয়ানের উত্তর–পূর্ব উপকূলীয় এলাকায় রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শনিবার স্থানীয় সময় রাতের দিকে সাগরে উৎপত্তি হওয়া এই ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে শক্তিশালী কম্পনের কারণে রাজধানী তাইপেসহ বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন জানায়, শনিবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে ইয়িলান কাউন্টির উপকূলীয় অঞ্চলের কাছে সাগরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭৩ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি হয়। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, ইয়িলান শহরের উত্তর–পূর্ব উপকূল থেকে আনুমানিক ৩২ কিলোমিটার দূরে ছিল ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল।
এই ভূমিকম্পের কম্পন রাজধানী তাইপের বিভিন্ন ভবনে স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়। হঠাৎ কেঁপে ওঠায় আতঙ্কিত হয়ে অনেক বাসিন্দা বাড়িঘর ছেড়ে খোলা জায়গায় নেমে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভবন দুলে ওঠার ভিডিও ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন স্থানীয়রা।
তাইওয়ানের জাতীয় অগ্নিনির্বাপণ সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পরপরই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে জরিপ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া না গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
এর আগেও চলতি মাসের ১৮ ডিসেম্বর তাইওয়ানে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩১ দশমিক ৬ কিলোমিটার গভীরে এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল পূর্বাঞ্চলীয় শহর হুয়ালিয়েন থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে সাগরে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে তাইওয়ান ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। দ্বীপটি দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রায়ই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। অতীতে ভয়াবহ ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতাও রয়েছে দেশটির। ২০১৬ সালে দক্ষিণ তাইওয়ানে এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এর আগে ১৯৯৯ সালে ৭ দশমিক ৩ মাত্রার এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হন।
সূত্র: রয়টার্স