সর্বশেষ

এখনো উদ্ধার হয়নি লুট হওয়া ১৩৩৫ অস্ত্র, বাড়ছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রে সহিংসতা

  • 5:38 pm - January 03, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১১৪ বার
এখনো উদ্ধার হয়নি লুট হওয়া ১৩৩৫ অস্ত্র। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৩ জানুয়ারি- দেশে গত এক বছরে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে খুন ও সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় এই সময়ে আড়াই শতাধিক মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন শতাধিক। পুলিশ বলছে, এসব ঘটনার বড় একটি অংশে জুলাইয়ের গণ আন্দোলনের সময় বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও পুলিশি স্থাপনা থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার পাওয়া যাচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই সময় সারা দেশে মোট ৫ হাজার ৭৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে গণভবন থেকে লুট হওয়া স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের ৩২টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে বিপুলসংখ্যক অস্ত্র উদ্ধার হলেও এখনো ১ হাজার ৩৩৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে লুট হওয়া ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৮৯ রাউন্ড গুলিরও এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। এর বাইরে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আরও বহু নেতাকর্মী গুলিতে নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ চাঁদা না পেয়ে চট্টগ্রামের চকবাজার থানাধীন এলাকায় এক শীর্ষ ব্যবসায়ীর বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে সন্ত্রাসীরা, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতার নতুন প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নতুন করে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ঢুকছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া পুলিশের বিপুলসংখ্যক অস্ত্র, যেগুলোর বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, এসব অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে চলে গিয়ে খুন, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যবহার হচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ীসহ একাধিক এলাকায় কিশোর গ্যাং ও পেশাদার সন্ত্রাসীদের হাতে এখন আগ্নেয়াস্ত্রের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় রয়েছে বলেও তিনি জানান।

অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে লুণ্ঠিত এসব অস্ত্র বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দ্রুত অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা না গেলে রাজনৈতিক সহিংসতা ও অপরাধ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের মতে, সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে অস্ত্র উদ্ধারের কোনো বিকল্প নেই।

এ অবস্থায় নির্বাচন সামনে রেখে থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে তৎপরতা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম। গত ২৯ ডিসেম্বর পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের বিভিন্ন থানা ও পুলিশি স্থাপনা থেকে লুট হওয়া ৫ হাজার ৭৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ১ হাজার ৩৩৫টি গত ১৭ মাসেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অস্ত্রের বড় অংশই এখন সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীদের হাতে রয়েছে।

অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারে খুনের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। গত বছরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি নিহত হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিরোধের জেরে অর্ধশতাধিক মানুষ গুলিতে প্রাণ হারান। চট্টগ্ররের ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে আব্দুল হাকিমকে গুলি করে হত্যা, রাউজানে এক রাজনৈতিক কর্মীকে হত্যা এবং নরসিংদীর পলাশে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ঈসমাইল হোসেনের মৃত্যু এসব ঘটনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সরকার পরিবর্তনের পর অন্তত ছয়জন শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিনে মুক্তি পান। তাদের পাশাপাশি বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় নতুন করে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠছে। এসব গোষ্ঠীর হাতেই লুট হওয়া ও অবৈধভাবে আনা অস্ত্র যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি মিডিয়া অ্যান্ড পিআর এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ টু অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১৬২টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়া গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযানে শত শত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সীমান্তে বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে সম্প্রতি ৬৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল গুলি ও বিস্ফোরক উদ্ধার হলেও সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো বলছে, সীমান্তপথে অস্ত্র পাচারের ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে।

মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, সামনে নির্বাচন থাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ব্যর্থ হলে দেশে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে। তাই দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এসব অস্ত্র উদ্ধার করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সূত্রঃ কালের কণ্ঠ

এই শাখার আরও খবর

নেপালের সেই সুড়ঙ্গে আর কেউ বেঁচে নেই:কাদায় চাপা পড়েছে সব, ভেঙেছে ছাদও

নেপালের ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের যে সুড়ঙ্গ থেকে শুক্রবার দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানে আর কেউ বেঁচে নেই বলে নিশ্চিত হয়েছেন উদ্ধারকারীরা। সুড়ঙ্গের শেষ…

আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ ঘর থেকে নবজাতকসহ ৩ লাশ উদ্ধার

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় একটি তালাবদ্ধ ভাড়া বাসা থেকে নবজাতকসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাতে মধ্য জামগড়া এলাকার হাজী হযরত আলীর চারতলা বাড়ির…

জাতিসংঘে নতুন বিশ্ব মানচিত্র অনুমোদন, বদলাবে প্রচলিত মানচিত্রের ধারণা

বিশ্বের প্রচলিত মানচিত্রে আফ্রিকার আয়তন বাস্তবের তুলনায় ছোট করে দেখানোর দীর্ঘদিনের সমালোচনার মধ্যে ‘ইকুয়াল আর্থ’ নামে নতুন ধরনের বিশ্ব মানচিত্র ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন…

কেরালায় লরির সঙ্গে গাড়ির সংঘর্ষে ৮ শিক্ষার্থী নিহত

ভারতের কেরালা রাজ্যের ত্রিশুর জেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা প্রতিবেশী রাজ্য তামিলনাড়ুর শিক্ষার্থী বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। শনিবার(৫ সেপ্টেম্বর) পুলিশ জানায়,…

এয়ারবাস কেলেঙ্কারিতে শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্টের ছেলে গ্রেপ্তার

এয়ারবাসের বিমান কেনাবেচায় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষের ছেলে ও দেশটির সংসদ সদস্য নামাল রাজাপক্ষে গ্রেপ্তার হয়েছেন। শুক্রবার দেশটির দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষ…

কিয়েভে রুশ ড্রোন হামলায় জ্বলছে ইউক্রেনের গোয়েন্দা সদর দপ্তর

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর সদর দপ্তরে রুশ ড্রোন হামলা হয়েছে। শুক্রবার দিনের আলোতে গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি ভবনে সরাসরি ড্রোন আঘাত হানার ঘটনায়…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au