মেলবোর্ন ৬ জানুয়ারি- বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নারী নির্যাতনের আরেকটি ভয়াবহ অভিযোগ সামনে এসেছে। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় এক হিন্দু বিধবা নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর গাছে বেঁধে চুল কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নির্মম নির্যাতনের একপর্যায়ে জ্ঞান হারান ওই নারী। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নির্যাতিতা নারী (প্রায় ৪০) পুলিশকে জানান, আড়াই বছর আগে শাহিন নামের এক ব্যক্তি ও তার ভাইয়ের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকায় জমিসহ একটি দোতলা বাড়ি কিনেছিলেন তিনি। সেই সময় থেকেই শাহিন তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় বিভিন্নভাবে হুমকি ও হয়রানি চলছিল।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত শনিবার সন্ধ্যায় শাহিন ও তার সহযোগী হাসান জোরপূর্বক বাড়িতে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় তারা আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাড়িতে থাকা তার দুই আত্মীয়কে মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
পরে অভিযুক্তরা নারীকে বাড়ির পাশের একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে মাথার চুল কেটে নেয় এবং সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্যাতনের পর ওই নারী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুটা সুস্থ হলে থানায় নিয়ে তার জবানবন্দি নেওয়া হয়।
ঝিনাইদহ পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের নৃশংস অপরাধ শুধু নারী নিরাপত্তা নয়, সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।