ধানক্ষেতের পাশের গর্তে নারী-পুরুষের অর্ধগলিত লাশ
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় ধানক্ষেতের পাশের একটি শ্যালো মেশিন ঘরের গর্ত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী ও এক পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে উপজেলার…
মেলবোর্ন, ৮ জানুয়ারি- পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, যার আওতায় বাংলাদেশকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠককে দুই দেশের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, দেশটির বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু এবং বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান বৈঠকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সংগ্রহসহ প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। জেএফ-১৭ একটি বহুমুখী যুদ্ধবিমান, যা পাকিস্তান ও চীনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি।
ইসলামাবাদ জানিয়েছে, আলোচনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে দ্রুতগতিতে সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান সরবরাহের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাইলট প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি কারিগরি সহায়তার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব রয়েছে।
এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন পাকিস্তান গত বছরের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘাতে নিজেদের বিমানবাহিনীর কার্যকারিতা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক অস্ত্রবাজারে অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। ওই সংঘর্ষটি ছিল ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনার ঘটনা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনা দক্ষিণ এশিয়ায় পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক বাস্তবতারও প্রতিফলন। ২০২৪ সালের আগস্টে গণআন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়ার পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়। এর পর থেকেই ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়তে থাকে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সফর দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিকে সামনে এনেছে এবং প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা গভীর করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার যৌথ অঙ্গীকার প্রকাশ করেছে।
শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সরাসরি বাণিজ্য পুনরায় শুরু করে। একই সঙ্গে সামরিক পর্যায়ে একাধিক বৈঠকও হয়েছে, যা সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একসময় নিষিদ্ধ থাকা জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা ফেরার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে, যাদের পাকিস্তানঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অন্যদিকে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান বর্তমানে পাকিস্তানের সামরিক শিল্পের প্রধান সাফল্য হিসেবে বিবেচিত। মঙ্গলবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ দাবি করেন, পাকিস্তানের অস্ত্রশিল্পের ক্রমবর্ধমান সাফল্য দেশের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
জিও নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পাকিস্তানের তৈরি বিমান যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। তাঁর ভাষায়, অর্ডারের এই ধারা অব্যাহত থাকলে নিকট ভবিষ্যতে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ওপর নির্ভরতা কমে যেতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au