টসে হাত মেলালেন না দুই অধিনায়ক—এটাই কি প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন ভাষা? ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন ১৮ জানুয়ারি: আইসিসি অনূর্ধ্ব–১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে, যেখানে টসের সময় ভারত ও বাংলাদেশের অধিনায়করা পরস্পরের সঙ্গে হ্যান্ডশেক বিনিময় করতে অস্বীকৃতি জানান। ঐতিহাসিকভাবে উত্তেজনাপূর্ণ এই দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি সমর্থক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে ক্রীড়াসুলভ আচরণ এবং পারস্পরিক সম্মানবোধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
দুই দলের আগের সাক্ষাৎগুলোতেও তীব্র আবেগ ও উত্তেজনা দেখা গেছে, যা কখনো কখনো মাঠের ভেতর উত্তপ্ত পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের ম্যাচটি ঘিরেও ছিল বাড়তি মনোযোগ।
হ্যান্ডশেক না করার মুহূর্তটি ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেক সমর্থক হতাশা প্রকাশ করে বলেন, অতীতের বিরোধ যাই থাকুক না কেন, খেলাধুলায় পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা জরুরি। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এই ঘটনা দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও উসকে দিতে পারে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ম্যাচের আগে হ্যান্ডশেক কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি সৌহার্দ্য ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার প্রতীক। প্রখ্যাত ক্রিকেট বিশ্লেষক ও সাবেক ক্রিকেটার হার্শা ভোগলে এ প্রসঙ্গে বলেন,
“খেলাধুলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্বাভাবিক, কিন্তু প্রতিপক্ষ ও খেলাটির প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠের প্রতিটি আচরণ তরুণ দর্শকদের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকে।”
অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপকে ভবিষ্যৎ তারকা তৈরির মঞ্চ হিসেবে দেখা হয়। এই টুর্নামেন্টে পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ অংশ নিচ্ছে, যেখানে প্রত্যেক দলেরই নিজস্ব ঐতিহ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তরুণ ক্রিকেটারদের মধ্যে বিনয়, শ্রদ্ধা ও ক্রীড়াসুলভ মানসিকতা গড়ে তোলার প্রয়োজন এখন আরও বেশি। উচ্চ চাপের ম্যাচগুলোতে ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি হতে পারে।
টুর্নামেন্ট যত এগোবে, দুই দল কীভাবে মাঠের আচরণ সামলায়—সেদিকেই নজর থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের। প্রতিভা ও দক্ষতার পাশাপাশি ক্রীড়াসুলভ মনোভাব দেখাতে পারলেই অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপের আসল সৌন্দর্য ফুটে উঠবে।
গতকালের এই খেলায় বাংলাদেশ পরাজিত হয়। বুলাওয়েতে অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত ৪৮.৪ ওভারে ২৩৮ রানে গুটিয়ে যায়। ৪৯ ওভারের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ দল ১৭.২ ওভারে ২ উইকেটে ৯০ রান তুলতেই আবার বৃষ্টির বাধা আসে। ফলে ওভার কমিয়ে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়—২৯ ওভারে ১৬৫ রান। অর্থাৎ বাকি ১১.৪ ওভারে (৭০ বলে) বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৭৫ রান। তখন ক্রিজে ছিলেন অধিনায়ক আজিজুল হাকিম ও কালাম সিদ্দিকী, আর হাতে ছিল ৮ উইকেট—যা দেখে লক্ষ্যটি খুব কঠিন মনে হয়নি। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে ২৮.৩ ওভারে ১৪৬ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচটি হেরে যায় বাংলাদেশ।