আসছে ‘মানি হাইস্ট’-এর নতুন সিজন
মেলবোর্ন,১১ মে- বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় স্প্যানিশ সিরিজ ‘মানি হাইস্ট’ বা ‘লা কাসা দে পাপেল’ আবারও আলোচনায়। নেটফ্লিক্সের নতুন টিজার প্রকাশের পর জোর গুঞ্জন উঠেছে, ফিরছে সিরিজটির…
মেলবোর্ন ২৫ জানুয়ারি- ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে মানুষ কত দূর যেতে পারে, উত্তর প্রদেশের জৌনপুরের এই ঘটনাই তার চরম উদাহরণ। এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের আকাঙ্ক্ষায় এক যুবক নিজের বাম পা কেটে ফেলেছেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। উদ্দেশ্য ছিল, বিশেষভাবে সক্ষম কোটায় এমবিবিএসে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাওয়া।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু ২৪ বছর বয়সী সূরজ ভাস্কর। তিনি ইতোমধ্যে ফার্মাসিতে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন। পরিবারের ইচ্ছা ছিল, ছেলে ডাক্তার হবেন। নিজেরও সেই স্বপ্ন ছিল। তবে তিনবার চেষ্টা করেও নিট (NEET) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হন সূরজ। এরপরই তিনি ভয়ংকর এই সিদ্ধান্ত নেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জানুয়ারি সূরজ নিজের বাম পা কেটে ফেলেন। পরে থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন, অজ্ঞাত পরিচয়ের কয়েকজন তাঁকে খুন করার চেষ্টা করেছে এবং সেই হামলাতেই তাঁর পা কেটে গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দুই অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে।
তবে তদন্ত এগোতেই পুলিশের সন্দেহ বাড়তে থাকে। বারবার বয়ান বদলাতে থাকেন সূরজ। তাঁর আচরণ ও কথাবার্তায় অসংগতি ধরা পড়ে। পুলিশ তাঁর ঘনিষ্ঠজন ও প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলে জানতে পারে, সূরজ চলতি বছর যেকোনো মূল্যে এমবিবিএসে ভর্তি হতে মরিয়া ছিলেন।
তদন্তে আরও জানা যায়, গত বছরের অক্টোবরে সূরজ বিশেষভাবে সক্ষম সার্টিফিকেট পাওয়ার আশায় বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। তবে সেখান থেকে তিনি কোনো সার্টিফিকেট পাননি। এই তথ্য পাওয়ার পর পুলিশের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
পরে ক্ষতস্থান পরীক্ষা করে পুলিশ দেখে, পা কাটা হয়েছে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে। এতে কোনো ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের চিহ্ন নেই, বরং যন্ত্রের সাহায্যে কাটা হয়েছে বলে মনে হয়। যেখান থেকে হামলার দাবি করা হয়েছিল, সেখানে কাটা পা পাওয়া যায়নি। উল্টো সেখানে কয়েকটি ইঞ্জেকশন উদ্ধার হয়।
সবশেষে তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ জানায়, সূরজ নিজেই অ্যানেস্থেশিয়া প্রয়োগ করে নিজের পা কেটে ফেলেছিলেন। ঘটনার পর তিনিই পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে ভুয়া হামলার গল্প সাজান।
বর্তমানে সূরজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই ঘটনায় সমাজে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে প্রশ্ন উঠছে শিক্ষা ব্যবস্থার চাপ, প্রতিযোগিতা এবং তরুণদের মানসিক অবস্থার দিকটি নিয়েও।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au