নতুন হামলার জেরে হরমুজ প্রণালিতে কমেছে জাহাজ চলাচল
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও…
মেলবোর্ন, ৬ ফেব্রুয়ারি- ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—রাষ্ট্র পরিচালনার এই মূলনীতিকে সামনে রেখে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিকেল সাড়ে ৩টায় দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।
বিএনপির এবারের ইশতেহারে কর্মসংস্থান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার, দুর্নীতি দমন এবং রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল সংস্কারের বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিএনপির ঘোষিত ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’, প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ‘১৯ দফা’, বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’ এবং সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সমন্বয়ে এই ইশতেহার চূড়ান্ত করা হয়েছে।
ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সঞ্চালনায় থাকবেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।
ইশতেহারের মূল ভিত্তি
ইশতেহারটি তৈরি করা হয়েছে বিএনপিঘোষিত ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’, প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ‘১৯ দফা’, বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’ এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সমন্বয়ে।
ইশতেহারে ‘করব কাজ, গরব দেশ’ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বিএনপি। আগামী দিনে ক্ষমতায় গেলে ইশতেহারে ৯টি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে দিয়েছে দলটি। ইশতেহারকে রাষ্ট্রসংস্কার, বৈষম্যহীন আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রগঠন, ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন, আঞ্চলিক সুষম উন্নয়ন ও ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ৫টি ভাগে বিভক্ত করেছে। এতে মোট ৫১টি দফাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
আসন্ন নির্বাচনে তারেক রহমান দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং এটিই তার প্রথম ইশতেহার।
নির্বাচনি ৯ প্রধান প্রতিশ্রুতি
১. প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থ সেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হবে।
২. কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’র মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বীমা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই সুবিধা পাবেন।
৩. দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
৪. আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন, প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা এবং ‘মিড-ডে মিল’ চালু করা হবে।
৫. তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্তকরণ এবং মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
৬. ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।
৭. পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে দেশপ্রেমী জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল খনন ও পুনঃখনন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপন এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।
৮. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
৯. ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ করা হবে।
ইশতেহারে অগ্রাধিকার: জুলাই হত্যার বিচার ও মানবাধিকার
বিএনপির ইশতেহারে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে:
তরুণদের স্বপ্ন: কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি
তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বিএনপি একগুচ্ছ আধুনিক পরিকল্পনা সাজিয়েছে। ‘আগামীর বাংলাদেশ হবে তরুণদের’—এই মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে ইশতেহারে থাকছে:
স্বাস্থ্যখাত: জিডিপির ৫ শতাংশ ও ‘ই-হেলথ কার্ড’
স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিএনপি বৈপ্লবিক পরিবর্তনের আশ্বাস দিচ্ছে:
বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, “চেয়ারম্যানের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুযায়ী স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি রোধ করা হবে আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। দুর্নীতি কমলে এবং প্রিভেন্টিভ হেলথ কেয়ারে জোর দিলে মানুষ সুফল পাবে।”
শিক্ষা ব্যবস্থা: আধুনিকায়ন ও ৩য় ভাষা শিক্ষা
শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কারের লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের ‘শিক্ষা সংস্কার কমিশন’ গঠনের কথা বলছে বিএনপি। উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:
অর্থনীতি ও সুশাসন: পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার
বিগত দেড় দশকে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনাই হবে অর্থনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার।
কৃষি ও মৎস্য: ‘জাল যার, জলা তার’
গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষকদের উন্নয়নে থাকছে বিশেষ প্যাকেজ:
পরিবেশ ও অবকাঠামো: সবুজ বিপ্লব
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিএনপি ‘সবুজ বাংলাদেশ’ গড়ার ডাক দিয়েছে:
স্থানীয় সরকারে চমক: ‘উন্নয়ন জনসভা’
প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে বিএনপি এক অভিনব ব্যবস্থার কথা বলছে। স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা প্রতি বছর অন্তত একবার উন্মুক্ত স্থানে ‘উন্নয়ন জনসভা’ করবেন, যেখানে তারা সরাসরি জনগণের প্রশ্নের মুখোমুখি হবেন এবং কাজের হিসাব দেবেন।
ধর্মীয় নেতাদের সম্মাননা ও অন্যান্য
ইশতেহার প্রসঙ্গে বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ আলমগীর পাভেল বলেন, “দেশ গড়ার পরিকল্পনাই বিএনপির ইশতেহার। আমরা আকাশকুসুম কল্পনায় নয়, বাস্তবে বাস্তবায়নযোগ্য প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। আগামী ১৮ মাসে ১০ লাখ কর্মসংস্থান এবং ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন আমাদের অগ্রাধিকার।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনাই হবে এই ইশতেহারের রাজনৈতিক দর্শন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au