লিড নিউজ

রয়টার্সের প্রতিবেদন

নতুন সরকারের সঙ্গে কাজের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের, প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যে আগ্রহ

বাংলাদেশে চীনের প্রভাব মোকাবিলায় সক্রিয় যুক্তরাষ্ট্র, নতুন সরকারের কাছে প্রতিরক্ষা বিকল্প প্রস্তাবের পরিকল্পনা

  • 8:12 pm - February 11, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৬৭ বার
বাংলাদেশে চীনের প্রভাব মোকাবিলায় সক্রিয় যুক্তরাষ্ট্র, নতুন সরকারের কাছে প্রতিরক্ষা বিকল্প প্রস্তাবের পরিকল্পনা। ছবিঃ ইউএস অ্যাম্বাসি

মেলবোর্ন, ১১ ফেব্রুয়ারি- দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে তাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সরঞ্জামকে চীনা সামরিক সরঞ্জামের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে ওয়াশিংটনের।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্টে জেনারেশন জেড নেতৃত্বাধীন এক গণআন্দোলনের মুখে ভারত-ঘনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। পরে তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। তার বিদায়ের পর বাংলাদেশে ভারতের প্রভাব কমতে শুরু করেছে বলে কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, আর সেই সুযোগে চীন তার প্রভাব আরও বিস্তৃত করছে।

সম্প্রতি চীন বাংলাদেশের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে, যার আওতায় ভারত সীমান্তের কাছাকাছি একটি ড্রোন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথভাবে চীনের উন্নত করা বহুমুখী যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থান্ডার কেনার বিষয়েও আলোচনা করছে।

এ প্রেক্ষাপটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের বাড়তে থাকা প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। তিনি জানান, চীনের সঙ্গে নির্দিষ্ট ধরনের সম্পৃক্ততার ঝুঁকি সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারকে স্পষ্টভাবে অবহিত করতে ওয়াশিংটন ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার ভাষায়, বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতার প্রয়োজন মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং মিত্র দেশগুলোর সরঞ্জামসহ বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে, যা চীনা ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকুক, যাতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার হয়। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর নয়াদিল্লি ও ঢাকার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ভিসা কার্যক্রম ও দুই দেশের মধ্যে ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগে।

বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করাকেও অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, অনেক মার্কিন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। তবে তারা চায়, নতুন সরকার দ্রুত এবং স্পষ্ট বার্তা দিক যে দেশটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রস্তুত। তার মতে, বাণিজ্যিক কূটনীতি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যে অগ্রগতি হয়েছে, নতুন সরকারের সঙ্গে তা আরও এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারে ওয়াশিংটন কাজ করতে চায়।

বর্তমানে জ্বালানি কোম্পানি শেভরন বহু বছর ধরে বাংলাদেশে কার্যক্রম চালালেও বড় পরিসরে অন্য মার্কিন কোম্পানির উপস্থিতি খুব বেশি দৃশ্যমান নয়। ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের এই ঘনবসতিপূর্ণ দেশে উচ্চ করহার এবং মুনাফা নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার জটিলতা বিদেশি বিনিয়োগে কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশে স্টারবাকস বা ম্যাকডোনাল্ডসের মতো মার্কিন ব্র্যান্ডের আউটলেটও নেই।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যেই সরকারই নির্বাচিত করুক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র সেই সরকারের সঙ্গে কাজ করবে। নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় প্রধান দুই জোটের নেতৃত্বে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। বিভিন্ন জনমত জরিপে বিএনপি এগিয়ে রয়েছে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নিয়েও কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র এখনো সবচেয়ে বড় অবদানকারী দেশ। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের সঙ্গে বৈশ্বিক পর্যায়ে ২০০ কোটি ডলারের একটি অর্থায়ন কাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্র স্বাক্ষর করেছে, যার লক্ষ্য মানবিক সহায়তার কার্যকারিতা বাড়ানো, বাংলাদেশও যার আওতায় রয়েছে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলার পুরো বোঝা একা যুক্তরাষ্ট্র বহন করতে পারবে না। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। অন্য দেশগুলোর প্রতি সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা পর্যাপ্ত অর্থ সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছে। এর ফলে রোহিঙ্গাদের খাদ্য রেশন কমানো হয়েছে এবং কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের নির্বাচন, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা সংকট মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন এক কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

সূত্রঃ রয়টার্স

এই শাখার আরও খবর

মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়াতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ

মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি বছরে মাথাপিছু জিডিপির হিসাবে ভারতের তুলনায় এগিয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ। যদিও সামগ্রিক অর্থনীতির আকারে ভারত…

বিশ্বের ‘সবচেয়ে সুন্দরী’ নারী হ্যাথাওয়ের পরিচয় কী

মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- পিপল ম্যাগাজিনের ‘ওয়ার্ল্ডস মোস্ট বিউটিফুল’ বিশেষ সংখ্যার কভার তারকা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন হলিউড অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথাওয়ে। এই স্বীকৃতিকে তিনি এখনো “অবিশ্বাস্য” বলে…

সরকার ৫২ দিনে সাড়ে ৪৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে

মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫২ দিনের মধ্যেই ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে বলে সংসদে দাবি করেছেন বিরোধী দলীয়…

হামের লক্ষণ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনের মৃত্যু ও নতুন রোগী শনাক্ত বৃদ্ধি

মেলবোর্ন, ২১ এপ্রিল- দেশে হাম ও হাম-সদৃশ লক্ষণ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে নতুন রোগী শনাক্ত…

এসএসসির প্রথম দিনে সারাদেশে ২৫ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত

মেলবোর্ন, ২১ এপ্রিল- দেশজুড়ে চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিনেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মোট ২৫ হাজার ৪০৮ জন…

মার্কিন অবরোধ ভেঙে দক্ষিণের বন্দরে ইরানি জাহাজ, দাবি ইরানি সেনাবাহিনীর

মেলবোর্ন, ২১ এপ্রিল-  ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ মার্কিন অবরোধ অমান্য করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বন্দরে সফলভাবে নোঙর করেছে। সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au