নতুন হামলার জেরে হরমুজ প্রণালিতে কমেছে জাহাজ চলাচল
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও…
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের হাতে মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশি যুবক জোবাইদুল আমিনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিশু যৌন নিপীড়ন চক্র পরিচালনার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এই বাংলাদেশি নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যেখানে তার বিরুদ্ধে আনা গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, দীর্ঘদিনের তদন্তে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার পরিচালক কাশ প্যাটেল শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, আন্তর্জাতিক শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে জোবাইদুল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মালয়েশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার সংস্থাগুলোর পাশাপাশি মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জোবাইদুল ২০২২ সাল থেকে পলাতক ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
২০২২ সালের জুলাইয়ে জোবাইদুলকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি আলাস্কাসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য স্থান ও বিদেশে শত শত শিশুকে নিপীড়নের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। একই বছরের সালের সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জোবাইদুলকে শিশু পর্নোগ্রাফি নিজের কাছে রাখা ও তৈরিসংক্রান্ত অভিযোগে অভিযুক্ত করে।
জোবাইদুলের বিষয়ে এফবিআই ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে আসছে। ৪ মার্চ তাকে মালয়েশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় নেওয়া হয়।
মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জোবাইদুল আমিনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের একটি ফেডারেল আদালতে মামলা রয়েছে। ২০২২ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি তাকে অভিযুক্ত করে। অভিযোগে বলা হয়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং বিদেশে অবস্থানরত শত শত অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে লক্ষ্য করে একটি সংগঠিত অনলাইন যৌন নির্যাতন চক্র পরিচালনা করতেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তিনি শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতেন। বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাটের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে অপ্রাপ্তবয়স্কদের খুঁজে বের করে তাদের নানা প্রলোভন বা ভয় দেখিয়ে যৌনতামূলক ছবি ও ভিডিও তৈরি করতে বাধ্য করা হতো। এসব কনটেন্ট সংগ্রহ ও আদান–প্রদানের মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বলছেন, এই ধরনের অপরাধচক্রে সাধারণত বিভিন্ন দেশের ব্যবহারকারীরা জড়িয়ে থাকে এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করায় এসব অপরাধ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে অভিযোগ আনার আগ পর্যন্ত জোবাইদুল আমিন মালয়েশিয়ায় বসবাস করছিলেন। সেখানে তিনি চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করছিলেন বলে জানা গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত শুরুর পরই তার বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানো হয়। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ও তার বিরুদ্ধে শিশু পর্নোগ্রাফি নিজের কাছে রাখা এবং তৈরি করার অভিযোগে মামলা করে।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থা ও মালয়েশিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়। সম্প্রতি তাকে মালয়েশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ মার্চ তাকে আলাস্কায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এফবিআই জানিয়েছে, এই গ্রেপ্তার অভিযানে মালয়েশিয়া সরকার ছাড়াও কুয়ালালামপুরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কার্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানীয় সংস্থা সহযোগিতা করেছে। বিশেষ করে আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের অ্যাঙ্কোরেজে অবস্থিত এফবিআই কার্যালয়ের কর্মকর্তারা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির পরিচালক।
জোবাইদুল আমিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে তার ন্যূনতম ২০ বছর থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।
আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিশুদের লক্ষ্য করে অনলাইনভিত্তিক যৌন নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অপরাধীরা বিভিন্ন দেশে বসে এমন অপরাধ সংঘটিত করছে। ফলে এসব অপরাধ দমনে বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জোবাইদুল আমিনকে গ্রেপ্তার এবং যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিশু সুরক্ষা এবং সাইবার অপরাধ দমনে বহুপক্ষীয় সহযোগিতার একটি উদাহরণ। একই সঙ্গে এটি দেখিয়েছে যে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এখন আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au