ধানক্ষেতের পাশের গর্তে নারী-পুরুষের অর্ধগলিত লাশ
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় ধানক্ষেতের পাশের একটি শ্যালো মেশিন ঘরের গর্ত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী ও এক পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে উপজেলার…
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- ঝিনাইদহে ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীদের পিটুনিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নীরব আহমেদ (২২) নিহত হওয়ার ঘটনায় রাতেই দুটি ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রাখা তিনটি বাসে আগুন দেওয়া হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়কের ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল এলাকা বাসশ্রমিকরা অবরোধ করে রাখেন। পরে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় অবরোধ তুলে নেয়া হয়। স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকে ঢাকা-ফরিদপুরগামী মহাসড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা হয় এবং রাতে পুড়ে যাওয়া বাসগুলো সড়কে রাখা হয়েছিল। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি হয়।
গতকাল রাত নয়টার দিকে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থিত তাজ ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীদের পিটুনিতে নীরব আহমেদের মৃত্যু হয়। নীরব ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলার সাবেক আহ্বায়ক কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য।
নীরব আহমেদ নিহত হওয়ার ঘটনায় রাতেই তাজ ফিলিং স্টেশনের তিন কর্মচারীকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। বিক্ষুব্ধ ছাত্রনেতা ও কর্মীরা রাতেই তাজ ফিলিং স্টেশনের মালিকের আরাপপুর এলাকায় অবস্থিত সৃজনী ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর চালান। এ সময় তিনটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি রোকনুজ্জামান রানু বলেন, ‘টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি কোচে গভীর রাতে আগুন দিয়েছে ১৫ থেকে ২০ জন দুর্বৃত্ত। তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, না হলে সড়কে গাড়ি চালানো সম্ভব হবে না। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, মামলা জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করা হবে এবং টার্মিনাল এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হবে। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নিয়েছে।’
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, আরাপপুরে সৃজনী ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনা এবং কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা নিহত হওয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সব ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তাজ ফিলিং স্টেশনের মালিক হারুন অর রশিদ বলেন, তিনি ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন। রাতের ঘটনায় তাঁর কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। তবে তাঁর মালিকানাধীন সৃজনী ফিলিং স্টেশন ও জেআর পরিবহনের একটি বাসসহ অন্য মালিকদের দুটি বাস পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
নিহত নীরব আহমেদের সৎ বাবা হারুন অর রশীদ জানান, ছেলে তাঁর কাছেই বড় হয়েছে, পরে ঝিনাইদহ শহরে খালার বাড়িতে চলে আসে। তারা মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে যান। এখন ময়নাতদন্তের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। মৃতদেহ ঝিনাইদহ সরকারি কবরস্থানে দাফন করা হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au