পর্যটক আসার খবরে সেন্টমার্টিনে ফিরেছে ঈদের আনন্দ
দুই বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে আবারও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হওয়ার অপেক্ষায় দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে দ্বীপের ব্যবসায়ী, জেলে, হোটেল-মোটেলকর্মী, নৌযান শ্রমিকসহ বিভিন্ন…
মেলবোর্ন, ১০ মার্চ- ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ব্যাপক মেরামত শেষে আবারও অধিবেশনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন। আগামী ১২ মার্চ বসতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। এ অধিবেশনকে সামনে রেখে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও সরঞ্জাম মেরামতে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
সংসদ সচিবালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন আন্দোলনকারীদের হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে জাতীয় সংসদ ভবন এবং আশপাশের স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর সংসদকে আবার কার্যক্রমের উপযোগী করে তুলতে বড় পরিসরে সংস্কার ও মেরামতের কাজ শুরু করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেদিন কয়েক হাজার মানুষ সংসদ ভবনের ভেতরে ঢুকে ব্যাপক তছনছ ও লুটপাট চালায়। স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ ও হুইপদের কক্ষসহ নয়তলা ভবনের প্রায় সব কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংসদ এলাকায় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কার্যালয়, সংসদীয় কমিটির সভাপতিদের অফিস এবং আবাসনও রেহাই পায়নি। লুটপাটকারীরা নগদ টাকা, কম্পিউটার, এসি, আসবাবপত্র, বিদ্যুৎ ও টেলিফোন সেট, সাউন্ড সিস্টেম এমনকি বাথরুমের বিভিন্ন সামগ্রীও নিয়ে যায়। আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় সংসদ লাইব্রেরির হাজার হাজার বই।
সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, ওই ঘটনায় দাফতরিক ও ব্যক্তিগত মিলিয়ে প্রায় ৯০ লাখ টাকা নগদ খোয়া যায়। ঘটনার পর সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকা নিরাপদ রাখতে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়। এসব কমিটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে উদ্ধার হওয়া মালামাল নির্দিষ্ট স্থানে জমা দেয়।
জাতীয় সংসদের গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভবনের বিভিন্ন ব্লকের মেইন সার্ভিস লাইন, ক্ষতিগ্রস্ত সুইচ, সকেট, পয়েন্ট ওয়্যারিং, এলইডি লাইট, টিউবলাইট ও সার্কিট ব্রেকার মেরামতে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। রাস্তা, মাঠ, গেট, লেক ও সি-রোড এলাকার সিকিউরিটি লাইট, স্ট্রিট লাইট ও গার্ডেন লাইট পুনঃসংস্কারেও উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন ব্লকের লিফটের যন্ত্রাংশ, সড়কবাতি, ফ্লাড লাইট ও সিসিটিভি প্রতিস্থাপনসহ আনুষঙ্গিক বৈদ্যুতিক কাজে প্রায় তিন কোটি টাকার মতো ব্যয় হয়েছে। সচিব হোস্টেল, এলডি হল, মেডিক্যাল সেন্টার, মিডিয়া সেন্টার, টিডি স্টুডিও ও ব্যাংক এলাকার বৈদ্যুতিক সংস্কারেও কয়েক কোটি টাকা খরচ হয়েছে।
সংসদ ভবনের অভ্যন্তরে ক্ষতিগ্রস্ত স্প্লিট ও উইন্ডো টাইপ এসি, স্ট্যান্ড ফ্যানসহ বিভিন্ন শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রপাতি মেরামত ও প্রতিস্থাপনে ব্যয়ের বড় অংশ গেছে। শুধু এসব কাজেই প্রায় ২১৯ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে। এ ছাড়া সাবস্টেশন, মসজিদ-সংলগ্ন অফিস, নিরাপত্তা গেটের স্ক্যানার ও আর্চওয়ে স্থাপনসহ অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংস্কারেও কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পটুয়াখালী-৪ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, শপথ গ্রহণের দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি সংসদ ভবনে গিয়ে দেখেছেন অনেক কিছুই সংস্কার করা হয়েছে। তার মতে, কিছুদিন আগেও সেখানে ভাঙচুর ও ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল।
জাতীয় সংসদের গণপূর্ত বিভাগের এক উপসহকারী প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঘটনার পরপরই ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং মেরামতের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, সংসদ ভবনের সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ মূলত সংসদ সচিবালয়ের নিজস্ব বাজেট থেকেই দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত প্রয়োজন হলে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ দেওয়া হবে।
সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানিয়েছেন, অধিবেশন বসার মতো প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অধিবেশন কক্ষ থেকে শুরু করে সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা এবং মন্ত্রীদের কক্ষেও ব্যাপক মেরামত করা হয়েছে। তার আশা, বাকি সামান্য কাজও খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাবে এবং নির্ধারিত সময়েই অধিবেশন শুরু করা সম্ভব হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au