অস্ট্রেলিয়া

জ্বালানি সংকট

অস্ট্রেলিয়ায় পেট্রোল কারচুপি ঠেকাতে কড়াকড়ি, সর্বোচ্চ ১০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত শাস্তি জরিমানা

  • 5:24 am - March 27, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২১৬ বার
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ২৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। পেট্রোলের দামে অনিয়ম বা প্রতারণা করলে এখন কোম্পানিগুলোকে সর্বোচ্চ ১০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হবে। এ লক্ষ্যে দেশটির সিনেট ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণকারী সংস্থার আরোপযোগ্য সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জ্বালানি সংকটের সুযোগ নিয়ে পেট্রোলের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রবণতা ঠেকাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি শুল্ক কমানো এবং সম্ভাব্য রেশনিং চালুর বিষয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। ছবিঃ সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং অর্থমন্ত্রী জিম চালমার্স বলেন, নতুন এই আইন ‘অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি’ বা প্রাইস গাউজিং রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে বিরোধী দল ও গ্রিনস পার্টি এই দাবির সঙ্গে একমত নয়। তাদের মতে, সরকারের পদক্ষেপ ধীরগতির এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে পারছে না।

এই নতুন জরিমানার আওতায় পড়বে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করার মতো তথ্য দেওয়া, দাম বাড়ানোর কারণ সম্পর্কে মিথ্যা বলা, কারসাজির মাধ্যমে দাম নির্ধারণ, বাজারে প্রভাব খাটানো এবং প্রতিযোগিতা-বিরোধী আচরণ। এসব অপরাধে জড়িত কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেন, “পেট্রোলের দামে কারচুপি আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। যারা অন্যায় করবে, তাদের জন্য শাস্তি দ্বিগুণ করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়ার জনগণের ক্ষতির বিনিময়ে মুনাফা বাড়ানোর কোনো যুক্তি নেই।

অর্থমন্ত্রী ক্যাটি গ্যালাঘার সিনেটে বলেন, এই আইন দেশের সাধারণ পরিবারগুলোর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার জন্য করা হয়েছে। তিনি জ্বালানি কোম্পানিগুলোর উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “আপনারা যদি গ্রাহকদের সঙ্গে সঠিক আচরণ করেন, সরকার আপনাদের পাশে থাকবে। কিন্তু যদি বিদেশি সংঘাতের সুযোগ নিয়ে মানুষকে ঠকান, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে গ্রিনস পার্টি এই আইনে ‘প্রাইস গাউজিং’ বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি সংজ্ঞায়িত করার প্রস্তাব দিলেও তা গৃহীত হয়নি। কুইন্সল্যান্ডের সিনেটর লারিসা ওয়াটার্স বলেন, এই আইন আসলে সমস্যার মূল জায়গায় আঘাত করছে না। তার ভাষায়, “এটি একটি ভাঁওতা। এতে দাম বাড়ানোর মূল সমস্যার সমাধান হবে না, বরং শুধু মিথ্যা বলার জন্য শাস্তি বাড়ানো হয়েছে।”

অন্যদিকে বিরোধী লিবারেল পার্টি সরকারের সমালোচনা করে বলেছে, তারা পরিস্থিতির গুরুত্ব যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছে। সিনেটর জেন হিউম বলেন, সরকার একদিকে ধীরগতিতে কাজ করছে, অন্যদিকে পরস্পরবিরোধী বার্তা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, “এই সংকটের মাত্রা বুঝতে সরকার দেরি করেছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় কৃষক, উৎপাদক, পরিবহন খাত এবং ছোট ব্যবসা—সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়ছে এবং শেষ পর্যন্ত এর বোঝা ভোক্তাদের ওপরই পড়ছে।”

ইরানের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান এই কৌশলগত জলপথে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এর প্রভাব বিশ্ববাজারে সরাসরি পড়ছে এবং অস্ট্রেলিয়াও এর বাইরে নয়।

এ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামীকাল একটি যৌথ টাস্কফোর্স বৈঠকে বসবে, যেখানে সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। এরপর জাতীয় পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।

সরকার বলছে, আপাতত জ্বালানির সরবরাহ নিরাপদ রয়েছে। তবে বিভিন্ন রাজ্যে জ্বালানি বিতরণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে জ্বালানি রেশনিং চালু করা হতে পারে, যেমনটি করোনা মহামারির সময় কিছু খাতে করা হয়েছিল।

একই সঙ্গে একটি পাবলিক ড্যাশবোর্ড চালুর পরিকল্পনাও করা হচ্ছে, যেখানে কোন কোন পেট্রোল স্টেশনে জ্বালানি রয়েছে এবং কোথায় নেই, সে তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যাবে।

দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের সর্বশেষ চিত্র অনুযায়ী, নিউ সাউথ ওয়েলসে ১৭৮টি স্থানে ডিজেল নেই এবং ৪৮টি স্থানে সম্পূর্ণ জ্বালানি সংকট রয়েছে। কুইন্সল্যান্ডে ৫৫টি স্থানে ডিজেল এবং ৩৩টি স্থানে পেট্রোল নেই। ভিক্টোরিয়ায় ৪৫টি স্থানে ডিজেল এবং ৭২টি স্থানে পেট্রোল সংকট রয়েছে, যদিও আগের তুলনায় কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় ৯টি স্থানে ডিজেল এবং ১০টি স্থানে পেট্রোল নেই। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় ৪০টি স্থানে ডিজেল ও ১৪টি স্থানে পেট্রোল সংকট রয়েছে। তাসমানিয়ায় ৫টি স্থানে ডিজেল এবং ৯টি স্থানে বিভিন্ন ধরনের ঘাটতি দেখা গেছে। অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরিতে ২টি স্থানে ডিজেল এবং ১টি স্থানে পেট্রোল নেই। তবে নর্দার্ন টেরিটরিতে জ্বালানি সরবরাহজনিত কোনো ঘাটতি নেই বলে জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে, জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া একদিকে কঠোর আইন প্রণয়ন করছে, অন্যদিকে সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি, এবং সামনের দিনগুলোতে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই শাখার আরও খবর

চাকরির আশায় কম্বোডিয়া, ১৭ দিন ‘স্ক্যাম সেন্টারে’ বন্দী

কম্পিউটারে ডেটা এন্ট্রির চাকরির আশায় দালালের মাধ্যমে কম্বোডিয়ায় গিয়েছিলেন মো. শফিকুল ইসলাম। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁর পাসপোর্ট ও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে একটি…

৭ গোলের জয়েও আক্ষেপ বাংলাদেশের কোচের

এশিয়া কাপ অনূর্ধ্ব-২০ হকিতে চাইনিজ তাইপেকে ৭-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। বড় ব্যবধানে জয় পেলেও দলের পারফরম্যান্সে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি বাংলাদেশের কোচ মহসিন। বিশেষ করে…

ইন্দোনেশিয়ায় অবৈধ প্রবেশের সময় ৮ বাংলাদেশিসহ আটক ১৬

মালয়েশিয়া থেকে অবৈধ পথে ইন্দোনেশিয়ায় প্রবেশের সময় আট বাংলাদেশিসহ ১৬ জন অভিবাসী শ্রমিককে আটক করেছে দেশটির নৌবাহিনী। সোমবার রিয়াউ প্রদেশের দুমাই শহরের উপকূলীয় এলাকায় অভিযান…

নেপালের সেই সুড়ঙ্গে আর কেউ বেঁচে নেই:কাদায় চাপা পড়েছে সব, ভেঙেছে ছাদও

নেপালের ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের যে সুড়ঙ্গ থেকে শুক্রবার দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানে আর কেউ বেঁচে নেই বলে নিশ্চিত হয়েছেন উদ্ধারকারীরা। সুড়ঙ্গের শেষ…

কিয়েভে রুশ ড্রোন হামলায় জ্বলছে ইউক্রেনের গোয়েন্দা সদর দপ্তর

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর সদর দপ্তরে রুশ ড্রোন হামলা হয়েছে। শুক্রবার দিনের আলোতে গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি ভবনে সরাসরি ড্রোন আঘাত হানার ঘটনায়…

‘নো গ্যাস নো বিল, নো সার্ভিস নো ট্যাক্স’

গ্যাস সংকট ও নাগরিক সেবার ঘাটতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি গ্যাস…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au